যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২২ নভেম্বর) বলেছেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবৈধ নির্দেশ মানতে নিষেধ করার আহ্বান জানানো ছয় ডেমোক্র্যাটকে জেলে পাঠানো উচিত। শুক্রবার তিনি ওই ছয় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার আচরণকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক উল্লেখ করে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হতে পারে বলেছিলেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ডেমোক্র্যাটরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি ছয় সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত ঘৃণ্য হুমকি’, যারা সবাই সামরিক বা গোয়েন্দা বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, যেসব বিশ্বাসঘাতক সেনাবাহিনীকে তার আদেশ অমান্য করতে বলেছে, তাদের এখনই জেলে থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, ডেমোক্র্যাটদের সেই বার্তা ছিল উচ্চমাত্রার রাষ্ট্রদ্রোহ এবং এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা সম্ভব নয়।
শুক্রবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, তারা অবৈধ নির্দেশ মানবেন না। এতে অংশ নেন অ্যারিজোনার মার্ক কেলি, মিশিগানের এলিসা স্লটকিন, কলোরাডোর জেসন ক্রো, পেনসিলভেনিয়ার ক্রিস ডেলুজিও ও ক্রিসি হুলাহান, এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যাগি গুডল্যান্ডার। তবে তারা কোন ‘অবৈধ নির্দেশ’-এর কথা বলেছেন তা স্পষ্ট করেননি।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের আপত্তির মুখে পড়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক জলসীমায় ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ট্রাম্প অনুমোদিত হামলায় ৮০-এর বেশি লোক নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা এসব অভিযানকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ট্রাম্প অতীতেও মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০২৩ সালে সাবেক মার্কিন জেনারেল মার্ক মিলি জানিয়েছিলেন, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল দাঙ্গার পর তিনি গোপনে চীনের সামরিক প্রধানকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল এবং চীনের ওপর হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। এরপর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, আগের দিনে এর শাস্তি হতো মৃত্যু।
সূত্র: জিও নিউজ





