শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার জানিয়েছেন, দীর্ঘ বছর ধরে চলা দমন ও নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে দেশ আজ নতুন দিকনির্দেশনায় এগোচ্ছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী তরুণ প্রজন্মের সাহসী ও ঐতিহাসিক অবদান জাতীয় জীবনে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-এর দ্বিতীয় সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। ড. আবরার বলেন, শাসকগোষ্ঠী নানা কৌশলের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা সচেতনতা, প্রতিবাদ এবং লেখনী শক্তির মাধ্যমে জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে বৈষম্য, মূল্যবোধের অবনতি এবং বহিঃশত্রুর বিভিন্ন চাপে দেশ এখনো সংকটময়। তাই স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্বশীল, সতর্ক ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন আগের চেয়ে অনেক বেশি।
উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও গবেষণা সম্প্রসারণে সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার গবেষণায় নতুন গতি যোগ করেছে। এজন্য শিক্ষক ও গবেষকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও উদ্ভাবনী ও গবেষণার কার্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্ত অবস্থানে স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বেও জোর দেন ড. আবরার। তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠান একটি পবিত্র দায়িত্ব, তাই প্রশাসনিক, আর্থিক ও একাডেমিক সকল ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
নতুন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের সাফল্যের পিছনে শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবিক সমাজ গঠনে তরুণরা মূল নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করবে। তিনি সমাবর্তনের মাধ্যমে হাবিপ্রবির ধারাবাহিক অগ্রগতি ও সাফল্যের জন্য শুভকামনা জানান।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়াও ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ এনামউল্যা, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির এবং রিজেন্ট বোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল, শিক্ষক ও কর্মকর্তা বৃন্দ।
সমাবর্তনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি মিলিয়ে আট হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সনদপত্র গ্রহণ করেন।





