বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৬৭৮ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু

ঢাকার সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধ অর্থ উপার্জনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সিআইডির মিডিয়া বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সিআইডি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে এবং তা অবৈধভাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রবেশ করিয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিআইডি অনুমান করছে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের মাধ্যমে দেশের ভিতরে ও বাইরে স্বর্ণ ও হীরার ব্যবসা চালানোর আড়ালে অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈধ এলসির মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকার স্বর্ণবার, অলংকার, লুজ ডায়মন্ড ও অন্যান্য দ্রব্য আমদানি করেছে। তবে একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় বা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকার স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে, কিন্তু সিআইডিকে বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়।

এই তদন্তে দেখা গেছে, চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ও সম্পদ রূপান্তর, হস্তান্তর বা ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য ও নথিপত্রের বিশদ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন অতিরিক্ত আইজিপির কাছে জমা দেওয়া হয়। এরপর ১৬ নভেম্বর সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলা দায়েরের অনুমোদন পায়।

সিআইডির মিডিয়া বিভাগের পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন খান বলেন, “ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় করা মামলা সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় এর তদন্ত আমাদের কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করবে। প্রয়োজনীয় নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে আইন অনুযায়ী নিবিড় তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ মামলার মাধ্যমে সিআইডি আশা করছে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত অর্থপাচারের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র যাচাইয়ের পর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার এবং মামলা অনুযায়ী আদালতে তোলা হবে।

এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সিআইডি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম তদন্তে সক্ষমতার প্রমাণও দিচ্ছে। সঠিক নথি ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অবৈধ অর্থপাচার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

শেয়ার করুন