মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা :
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের আকন্দপাড়া গ্রামের মৃত ইয়াজলের ছেলে মোঃ মোস্তাফা (৩০), পেশায় গাছকাটা শ্রমিক। প্রতিদিনের মতো শ্রমবাজারে গিয়ে পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করাই ছিল তার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনায় থেমে গেছে তার সমস্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে পার্শ্ববর্তী শেরপুর জেলার শ্রীবরদীর সিংগাবুরুনা গ্রামে গাছের ডাল কাটার সময় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় এবং এরপর থেকেই তিনি পুরোপুরি শয্যাশায়ী।
দুর্ঘটনার পর কিছুদিন চিকিৎসা নিলেও ধারাবাহিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা না পাওয়ায় তার অবস্থা দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে ইতোমধ্যে তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন সামান্য সঞ্চয় ও পরিবারের সব সহায়–সম্পদ। এখন হাতে কোনো অর্থ নেই, ফলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা—পরিবারের দু’মুঠো খাবার জোগাড় করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
ডাক্তাররা জানিয়েছেন—নিয়মিত চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি ও পরিচর্যা না হলে মোস্তাফা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়তে পারেন।
বর্তমানে কোমর থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত অবশ হয়ে যাচ্ছে তার। নিজের পা নিজেই নড়াতে পারছেন না। অবশতার কারণে বিছানাতেই প্রসাব–পায়খানা করতে বাধ্য হচ্ছেন। তার জরুরি প্রয়োজন একটি হুইলচেয়ার, কিন্তু অর্থের অভাবে সেটিও কেনা সম্ভব হয়নি।
চার সন্তানকে নিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটছে মোস্তাফার পরিবারের। তার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
“আজ রাতের খাবারের ব্যবস্থাও নেই আমাদের। চারটা বাচ্চা নিয়ে কি ভাবে বাঁচবো?”
বাট্টাজোড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ লিটন আকন্দ বলেন—
“আমি শুনেছি তিনি গাছ থেকে পড়ে আহত হয়েছেন, কিন্তু কেউ কখনো আমার কাছে আসেননি। আজ বিস্তারিত জানলাম। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, আমি তা করার চেষ্টা করব।”
মোস্তাফার মতো এক পরিশ্রমী শ্রমিকের জীবন যে এভাবে থেমে যাবে তা ভাবতেও পারছেন না স্থানীয়রা। তারা বলেন—
“এমন অসহায় একটি পরিবারকে একা ফেলে রাখা যায় না। প্রশাসনসহ সমাজের সকল বিত্তবানরা যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়ান, মোস্তাফা আবার চিকিৎসা নিতে পারবেন, বাঁচার সুযোগ পেতে পারেন।”
মানবিক সহায়তার অভাবে চিকিৎসা ও খাদ্য সংকটে দিন কাটানো মোস্তাফা পরিবারের জন্য এখন প্রয়োজন সবার সহযোগিতা ও সহমর্মিতা।





