শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চাপের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্যাস কিনবে ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চুক্তি সই করেছে ভারত। এই চুক্তির ফলে দিল্লিতে ব্যবহৃত মোট তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করবে ওয়াশিংটন।

রুশ তেল কেনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপের মধ্যেই দিল্লি এই বড় এলপিজি চুক্তি সম্পন্ন করল।

গত আগস্টে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে নেমে যায়, যখন ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল— রাশিয়ার কাছ থেকে কম দামে তেল কিনে মস্কোকে যুদ্ধ চালাতে সহায়তা করছে ভারত। এরপর ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে রুশ তেল আমদানি কমাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজি হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চয়তা এখনো দেয়নি নয়াদিল্লি।

কৃষিপণ্য বাণিজ্য থেকে শুরু করে রুশ তেল— নানা মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।

ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হার্দীপ সিং পুরি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বছরে ২২ লাখ টন এলপিজি আমদানির জন্য এক বছরের চুক্তি হয়েছে। যা দেশের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। পুরির ভাষায়, এটি ‘ভারতীয় বাজারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম এলপিজি চুক্তি’।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এলপিজি নিশ্চিত করতে ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পথ বাড়াচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অন্যতম বৃহৎ এলপিজি বাজার ভারত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত হলো।

এর আগে গত অক্টোবরে রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট রিফাইনার এইচপিসিএল–মিত্তাল এনার্জি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা রুশ তেল কেনা বন্ধ করেছে। রাশিয়ার সবচেয়ে বড় দুটি তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আসার পরই তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যক্তিখাতের সবচেয়ে বড় রুশ তেল আমদানিকারক রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তারা পর্যালোচনা করছে।

এএফপির হিসাবে, বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতের প্রবৃদ্ধি গত জুন প্রান্তিকে পাঁচ ত্রৈমাসিকের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও ভোক্তাদের আস্থা বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক এখনও ভারতের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শুল্ক কমানো না হলে চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬০ থেকে ৮০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

শেয়ার করুন