অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবান্ন উৎসব ১৪৩২ উপলক্ষে আজ রোববার উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল আনন্দ র্যালি। হেমন্তের স্নিগ্ধ আবহ আর নতুন ফসলের সুবাস মিলিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয় এক মনোরম দৃশ্য। লোকগানের সুরে ভেসে আসে পরিচিত লাইন—‘হেমন্ত এসেছে, নতুন ধানের গন্ধে ভরেছে মাঠ’, আর সেই সুরেই প্রাণ ফিরে পায় নবান্নের ঐতিহ্য। পুরো আয়োজন পরিচালনা করে এগ্রোনমি অ্যান্ড
এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগ।

সকালে বিভাগের সামনে জমায়েত হতে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। হাতে ধান শীষ, আলপনার নকশা, কৃষি উপকরণ, পোস্টার-ব্যানার ও নবান্নের প্রতীকী সামগ্রী সব মিলিয়ে শুরুতেই র্যালিতে যুক্ত হয় এক উজ্জ্বল রঙিন আবহ। এরপর শোভাযাত্রাটি বিভাগ প্রাঙ্গণ থেকে যাত্রা করে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পথিমধ্যে চলতে থাকে লোকসংগীত, ঢাক-ঢোলের তাল, হেমন্তের গান ও কৃষকজীবনের চিরচেনা সুর। শিক্ষার্থীরা নেচে-গেয়ে, স্লোগান ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে উৎসবে উচ্ছ্বাস যোগ করেন। অনেকেই ঐতিহ্যবাহী খড়ের টুপি, নবান্নের প্রতীকী ধানগুচ্ছ ও গ্রামীণ সাজে র্যালিকে আরও জীবন্ত করে তোলেন।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, নবান্ন উৎসব শুধু নতুন চালের স্বাদ বা কৃষি মৌসুমের পরিবর্তন নয়; এটি শত বছরের গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আয়োজন তাদেরকে নিজেদের শিকড়, কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ও প্রাচীন ঋতুচক্রের সঙ্গে নতুনভাবে সংযুক্ত করে।
বিভাগের শিক্ষকরা বলেন, নবান্ন উৎসব কৃষি গবেষণা, কৃষকের জীবনসংগ্রাম, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং ফসল উৎপাদনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শিক্ষার্থীরা যখন এই উৎসবে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেয়, তখন কৃষি শুধু পাঠ্যপুস্তকের বিষয় হিসেবে না থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।
হেমন্তের কোমল বাতাস, নতুন ধানের প্রতীকী শোভা, লোকসংগীতের সুর আর শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে রঙিন হয়ে ওঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের দিনটি। নবান্ন উৎসব ১৪৩২ এভাবেই রোববার ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেয় সমবেত আনন্দ, সৃজনশীলতা এবং শেকড়ের টানে ভরপুর এক প্রাণময় আবহ।





