মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আত্মসমর্পণের পর সাবেক বিচারপতি ও দুইজনের জামিন অনুমোদন

পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ মিসরীয় বিমান ভাড়া আনার ঘটনায় সরকারের ৭৪১ কোটি টাকার ক্ষতির মামলায় আত্মসমর্পণ করার পর সাবেক বিচারপতি এ এফ এম মেজবাউদ্দিনসহ তিনজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার (১২ নভেম্বর) পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের সহকারী রেকর্ডার মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জামিন পাওয়া অন্য দুই আসামি হলেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক পরিচালক ফজলে কবির। তারা আদালতে হাজির হয়ে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদারের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলায় গত ৪ নভেম্বর আদালত ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে। পলাতক থাকার কারণে সাবেক বিচারপতি এ এফ এম মেজবাউদ্দিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এই মামলায় সাবেক পরিচালক খোরশেদ আলম চৌধুরী, সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল আবু এসরার, সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল আহমেদ এখনও পলাতক রয়েছেন।

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ফ্লাইট অপারেশনস পরিচালক ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদ, সাবেক ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল আলম সিদ্দিক, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ, প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার দেবেশ চৌধুরী, প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার শরীফ রুহুল কুদ্দুস, সাবেক উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, ইঞ্জিনিয়ার অফিসার (অব.) মো. জাহিদ হোসেন, প্রকৌশলী কর্মকর্তা হীরালাল চক্রবর্তী, প্রিন্সিপাল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার অশোক কুমার সর্দার ও প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক জেসমিন আক্তার এ বিষয়ে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ইজিপ্ট এয়ার থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয়। ২০১৫ সালে একটির ইঞ্জিন বিকল হলে অন্য ইঞ্জিন ভাড়া নিতে হয়। দেড় বছরের মধ্যে সেটিও নষ্ট হয়। পরে আরও একটি ভাড়ার ইঞ্জিন আনা হয় যা আবার নষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত মেরামতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে উভয় পক্ষকে অর্থ প্রদান করতে হয়। এতে রাষ্ট্রের ক্ষতি দাঁড়ায় ৭৪১ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন