বিবিসি বর্তমানে বিশৃঙ্খল, দিশাহারা ও নেতৃত্বহীন অবস্থায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সংবাদ নিয়ন্ত্রক ক্রেইগ অলিভার। বিবিসির মহাপরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদত্যাগের পর রেডিও ফোরের টুডে অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অলিভার বিবিসি ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বলেন, বিবিসিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
তার মতে, এই সংকটময় সময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষার জন্য চেয়ারম্যান সমির শাহের এগিয়ে আসা জরুরি ছিল, কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না।
রেডিও ফোরের টুডে অনুষ্ঠানে অলিভার আরও বলেন, “আমরা এখনো জানি না, যা কিছু ঘটেছে তার বিষয়ে বিবিসির আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী।”
রোববার রাতে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি ও বার্তাপ্রধান ডেবোরাহ টারনেস পদত্যাগ করেন। পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠার পর তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
টিম ডেভি এক বিবৃতিতে বলেন, “কিছু ভুল হয়েছে এবং মহাপরিচালক হিসেবে শেষ পর্যন্ত আমাকে দায় নিতে হবে।” অপরদিকে ডেবোরাহ টারনেস বলেন, “চূড়ান্তভাবে এই দায়ভার আমার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য কঠিন ছিল।
বিবিসির এডিটোরিয়াল গাইডলাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস কমিটির (ইজিএসসি) সাবেক পরামর্শক মাইকেল প্রেসকট বিবিসির সংবাদ পরিবেশনে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলেন।
বিতর্কের সূত্রপাত বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানে প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রকে ঘিরে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুটি ভিন্ন বক্তব্য জোড়া দিয়ে উপস্থাপন করা হয়। এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, ট্রাম্প ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার ঘটনায় উসকানি দিচ্ছেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই টিম ডেভি ও ডেবোরাহ টারনেসের পদত্যাগ আসে।





