শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ৬৯ হাজারের বেশি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে ক্রমেই বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৬৯ হাজার ১৬৯ জন ফিলিস্তিনি

শনিবার (৮ নভেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত এক মাসেই ইসরাইলি হামলায় ২৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবারের সর্বশেষ হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও নানা অজুহাতে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা। বিশেষ করে উত্তর গাজার সীমান্তে ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রমের অভিযোগে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়রা বলছেন, এই ‘ইয়েলো লাইন’ আসলে অদৃশ্য এক সীমারেখা, যার অবস্থান কেউ জানে না—ফলে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ মানুষ।

অন্যদিকে, গাজার বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। নেতানিয়াহুর বাহিনীর পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে এক শিশুরও। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ইসরাইল দুই লাখ টনের বেশি বোমা ফেলেছে গাজায়, যার মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার টন এখনো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় এখন ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে পাম্প স্টেশন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা। ফলে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পুকুরে জমে থাকা নোংরা ও দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বসতি ও আশ্রয়কেন্দ্রে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পানির স্তর প্রায় ৬ মিটার পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা সৃষ্টি করেছে দুর্গন্ধ, মশার বিস্তার ও রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ভূগর্ভস্থ পানির বেশিরভাগ অংশই এখন মারাত্মকভাবে দূষিত।

একইসঙ্গে, পশ্চিম তীরেও বেড়েছে সহিংসতা। জেনিনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাবা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা, যাদের সহায়তা করছে ইসরাইলি সেনারা।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরের ৭০টি গ্রামে অন্তত ১২৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে চার হাজারের বেশি জলপাই গাছ, যা বহু ফিলিস্তিনি পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস ছিল।

শেয়ার করুন