জলিলুর রহমান জনি , সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের খামার পাইকশা গ্রামে মৃত খাদেম আলী মন্ডলের জমি প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় খামার পাইকশা স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৃত খাদেম আলী মন্ডলের পরিবারের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, মৃত খাদেম আলী মন্ডল ছিলেন খামার পাইকশা গ্রামের একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে আইন অনুযায়ী তাঁর একমাত্র জীবিত ভাই আবেদ আলী মন্ডল উত্তরাধিকারী হন। পরবর্তীতে আবেদ আলীর পুত্র মো. আব্দুল হালিম ও কন্যা মোছা. আমিনা বেগম বৈধভাবে উক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।
তবে অভিযোগ করা হয়, রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের ঝাপরি গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিন ও মৃত সাবেদন দম্পতির পুত্র মো. রহমত আলী মন্ডল প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার নাম পরিবর্তন করে মৃত খাদেম আলী মন্ডল উল্লেখ করেছেন। তাঁর জন্মতারিখ ১৭ আগস্ট ১৯৩৮ এবং ভোটার আইডি নম্বর ১৯২০০৩৪৬২৪ হলেও ভোটার আইডিতে জন্মস্থান হিসেবে খামার পাইকশা, ডাকঘর পাইকশা-৬৭০০, সিরাজগঞ্জ সদর উল্লেখ করেছেন—যা প্রকৃতপক্ষে ভুয়া তথ্য।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রায় এক যুগ আগে খাদেম আলী মন্ডলের সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে রহমত আলী এই নাম-পরিবর্তনের কাজটি গোপনে সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত খাদেম আলীর পুত্র দাবি করে শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে একটি ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করেন। পরে সেই সনদ ব্যবহার করে কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের লাহেড়ী বাড়ী মৌজাসহ বিভিন্ন এলাকায় মৃত খাদেম আলীর নামে থাকা সম্পত্তিতে নিজের নাম ওয়ারিশসূত্রে নামজারি করে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, রহমত আলীর পুত্র মো. জহুরুল ইসলামও এ ঘটনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের নিকট দাবি জানানো হয়—ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রহমত আলী মন্ডল ও তাঁর পুত্র জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত ওয়ারিশ সনদ ও নামজারি বাতিল এবং মৃত খাদেম আলী মন্ডলের বৈধ উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।





