অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টার :
গাজীপুরে একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধের ফলে বেকারত্ব বাড়ছে । পোশাক শিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ, বকেয়া বেতন পরিশোধ, বেতন বৈষম্য, অনিরাপদ কাজের পরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘন্টা, কর্মী ছাঁটাই, চাকরির অনিশ্চয়তা সহ বিভিন্ন সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করে পোশাক কারখানা চালু করা প্রয়োজন।
দেশের বেশির ভাগ পোশাক কারখানা গাজীপুর জেলায় অবস্হিত । দিনের পর দিন গাজীপুরে পোশাক শিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ বেড়েই চলছে। এক গার্মেন্টস কারখানার সমাস্যার হলে অন্য গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। পোশাক শিল্পে শ্রমিক বিক্ষোভের কারনে অনেক কারখানা অচল হয়ে পড়েছে। গার্মেন্টস কারখানা অচল হয়ে পড়লে মালিক, শ্রমিকদের ক্ষতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের বাধার সৃষ্টি করে।
গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বেতন বৃদ্ধি দাবিতে আন্দোলন বেশি হয় । গার্মেন্টস কারখানায় সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে মালিক, শ্রমিক নেতা, ও শ্রমিকদের আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন । কিন্তু গাজীপুর একের পর এক গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ হলে কারখানার মালিকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ফলে বেকারত্বের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্প বন্ধ হলে যে সকল নারী, পুরুষ চাকরি হারায় তাদের বেশির ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষ।
শ্রমিক বিক্ষোভের ফলে ঢাকা -ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়া, চান্দরা, সড়ক অবরোধ শ্রমিকরা অবরোধ করলে যানজট সৃষ্টি হয়ে যাএীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মহাসড়কে যানজট বেড়ে গেলে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায় । কোন কোন গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে গার্মেন্টস কারখানা ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে ।
গার্মেন্টস শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে নারী,পুরুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সমাজের, দেশের উন্নয়ন হয়েছে। পোশাক শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
পোশাক শিল্পে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে । নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ফলে পরিবারের ও সামাজিক ভাবে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি কারনে সন্তান ও পরিবারের চাহিদা পূরন করতে পারছেন। নারীদের কর্মসংস্থানের কারনে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাশাপাশি সন্তানদের স্কুলে পড়ালেখা করাতে পারছেন। এতে দেশের নিরক্ষতার সংখ্যা কমে সাক্ষরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উওরাঞ্চলের মানুষে এক সময় মঙ্গায় কষ্ট করতো । গার্মেন্টসের কারখানায় উওরবঙ্গের অনেক মানুষ চাকরি করায় দেশে আর মঙ্গা দেখা যায় না। উত্তরাঞ্চলে এক পরিবার থেকে মা- বাবা, ভাই – বোন সহ সক্ষম বেশিরভাগ মানুষ গাজীপুর, কোনাবাড়ী, চান্দরা, আশুলিয়া সহ বিভিন্ন স্থানে গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতে আসেন ।ফলে উওরাঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন। বাংলাদেশে গাজীপুর গার্মেন্টস কারখানা বেশিরভাগই গড়ে উঠেছে ।
শ্রমিকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অনেক পোশাক কারখানায় দুই / তিন মাস ধরে শ্রমিকরা বেতন পায় না । মালিক পক্ষ বার বার বেতন দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বেতন দেয় না। এতদিন আমরা অপেক্ষা করেছি। ।আমরা আর অপেক্ষা করতে পারছি না। আমরা বাসা ভাড়া দিতে পারছি না। বাজার করে খাবার টাকা নেই, আমাদের পিট দেওয়ালে ঠেকে যাবার কারনে অবরোধ করতে বাধ্য হই ।
পোশাক শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে শন্কা দেখা দিয়েছে। পোশাক শিল্পের অস্হিশীল পরিস্থিতির কারনে বিদেশিরা মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। পোশাক শিল্পের কোন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করা প্রয়োজন। অবহেলার কারণে পোশাক শিল্পের বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
পোশাক কারখানা বন্ধ হলে অনেক খাতেই তার প্রভাব পড়ে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। পোশাক কারখানার সাথে জড়িয়ে আছে সুতা, কাপড়, বোতাম, লেবেল, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ, স্হানীয় কাঁচা বাজার এমনি চায়ের দোকানের ব্যবসা কমে যায়। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাবার কারনে বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব বাড়লে দেশের দরিদ্র্য মানুষ বেড়ে যায়। দেশে, সমাজে অস্হিরতা ও অপরাধ বেড়ে যায়।
রপ্তানী আয় কমে গেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায়। গার্মেন্টস শিল্প বন্ধ হয়ে গেলে শুধু শ্রমিক নয়, দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রপ্তানিমুখী পোশাক
শিল্পকে বাঁচাতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পোশাক শিল্পের মালিক, শ্রমিক নেতা, সাধারণ শ্রমিক, স্হানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে বলে অভিজ্ঞ মহল
মনে করেন।





