বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

উত্তরপ্রদেশে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ অন্তত ১০

উত্তরপ্রদেশের বাহারাইচ জেলায় ঘন জঙ্গলে ঘেরা গেরুয়া নদীতে বুধবার ভোরের দিকে একটি ছোট নৌকা উল্টে অন্তত ১০ যাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত মৃত্যুর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নৌকায় প্রায় ৩০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ছিল গ্রামীণ নারী ও দিনমজুররা। প্রবল স্রোত এবং নৌকার অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোরের আলো ফোটার আগেই নদী পারাপারের সময় নৌকাটি উলটে যায়। নৌকায় থাকা কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ কাজের খোঁজে পাশের মহসিনপুর গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। নৌকাটি কাঠের তৈরি এবং দীর্ঘদিন ধরে মেরামতহীন ছিল। হঠাৎ প্রবল বাতাস ও স্রোতের চাপের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারায়।

প্রাথমিক উদ্ধারকাজ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হলেও যথেষ্ট সরঞ্জাম বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপস্থিত ছিল না। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান, কিন্তু নদীর প্রবল স্রোত এবং ঘন জঙ্গল ও কর্দমাক্ত তীরবর্তী এলাকায় তাদের কাজ খুবই জটিল হয়ে ওঠে।

প্রায় তিন ঘণ্টা পর প্রথম লাশ উদ্ধার হয়, যা এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ১০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যদিও সরকারি পরিসংখ্যানে সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে পাঁচ জন দেখানো হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা অভিযোগ করেন, এই নদী পারাপারের জন্য প্রতিদিন শতাধিক মানুষ ঝুঁকি নিচ্ছে, কিন্তু প্রশাসন কোনো নজরদারি করছে না। নদীতে কোনো সেতু নেই এবং নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। অনেক গ্রামীণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এতটাই অমূল্য যে, তাদের ঝুঁকি নেয়ার বিষয়টি বারবার উদাসীনতার মধ্যে পড়ে।

এক স্থানীয় যুবক জানিয়েছেন, এখানে গরিব মানুষের জীবন মানে সরকারের কাছে কোনো মূল্য নেই। প্রশাসনের দৃষ্টি না থাকায় মানুষ প্রতিনিয়ত বিপদের মধ্যে পড়ে।

স্থানীয় দমকল বাহিনী ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল উদ্ধারকাজে নিযুক্ত হলেও নদীর শক্তিশালী স্রোত এবং জঙ্গলাঞ্চলের কর্দমাক্ত তীর তাদের কাজ কঠিন করে তুলেছে। প্রশাসনের বিলম্বিত উদ্যোগের কারণে উদ্ধার অভিযান দীর্ঘসময় ধরে স্থগিত থাকে।

প্রতিবাদ এবং শোকের মধ্যে গ্রামবাসীরা নদীর দুই তীরে জড়ো হন। তারা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন নৌকায় মানুষ যাতায়াত করতে বাধ্য হয়, কিন্তু নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে প্রাণহানি ঘটছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এর আগেও বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে এবং নিখোঁজদের খোঁজ চলছে। এছাড়া তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিমত, প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত তৎপরতা নেই এবং নিয়মিত প্রতিশ্রতি ছাড়া কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, তবে জনতার ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এখনও গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই এবং প্রতি বছর একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন শিক্ষা নিচ্ছে না।

উত্তরপ্রদেশের দূরবর্তী অঞ্চলে সরকারি নজরদারির অভাব সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের এই অবহেলা নিয়মিত এবং পুনরাবৃত্তি ঘটে।

বাহারাইচ জেলা ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী একটি জঙ্গলঘেরা এলাকা, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নেয়। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই অবহেলা নিয়মিত এবং পুনরাবৃত্তি ঘটে।

শেয়ার করুন