মো: ইয়াসির আরাফাত (বিএমইউ) প্রতিনিধি :
গতকাল, ২৭ অক্টোবর ২০২৫, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে।
এই গৌরবোজ্জ্বল অনুষ্ঠানে মাননীয় উপাচার্য রিয়ার এডমিরাল খন্দকার আক্তার হোসেন, রেজিস্ট্রার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়াম হলে আয়োজিত হয়। উপাচার্য রিয়ার এডমিরাল খন্দকার আক্তার হোসেন তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক অগ্রগতি তুলে ধরেন।
তিনি বিশেষ করে চট্টগ্রামের হামিদচরে নির্মাণাধীন স্থায়ী ক্যাম্পাসের সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করেন । তিনি শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে সফল হতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দেই না, তাদেরকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্ষম করে তুলতে চাই। এখান থেকে বের হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

এসময় তিনি আরও জানান , ২৭ নভেম্বর ২০২৫ (রোজ বৃহস্পতিবার) কেন্দ্রিয় পার্ক, জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পে এক মনোরম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ বছর পূর্তির বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন করা হবে এবং এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ও উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন। এই বনভোজনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নানা আকর্ষণীয় কার্যক্রম থাকছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সংস্কৃতির একটা উৎসবমুখর মিলনকে চিহ্নিত করবে।একইসাথে কালচারাল ক্লাবের প্রাণবন্ত সদস্যরা অনুষ্ঠানে নৃত্য, গান, নাটক সহ সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর দেশের প্রথম বিশেষায়িত মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এটি বাংলাদেশের ৩৭তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় ও বিশ্বের ১২তম মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয় তার ১২ বছর পূর্তির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস উদযাপন করছে, যা নীল অর্থনীতি ও সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকা তুলে ধরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়’ যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পুনঃনামকরণ করা হয়। প্রথম ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর, এরপর ২০১৭ সালে ওশানোগ্রাফি বিভাগে প্রথম ব্যাচ শুরু হয়।
এরপর নেভাল আর্কিটেকচার এবং অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিটাইম আইন, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস, এবং মেরিন ফিশারিজসহ বিভিন্ন বিভাগ চালু হয়েছে।বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন হলো বিশ্বের মানসম্মত মেরিটাইম শিক্ষা প্রদান করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা যা দেশের নীল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। মিশনে রয়েছে সমুদ্রসম্পদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মান অনুসারে মানবসম্পদ গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পৃক্ত করা।
শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আধুনিক ল্যাব, গবেষণা সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ। গবেষণার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্র সংরক্ষণ ও মেরিটাইম আইনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা হয়।বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কার্যক্রম ঢাকার পল্লবীতে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চলমান থাকলেও এর নির্মাণাধীন স্থায়ী ক্যাম্পাস চট্টগ্রামের হামিদচরে অবস্থিত।
এখানে নির্মাণাধীন রয়েছে আধুনিক একাডেমিক ভবন, আবাসিক সুবিধা, গবেষণাগার, বিস্তীর্ণ লাইব্রেরি এবং বিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স।
কর্তৃপক্ষ হতে ২০২৬ সালের জুন মাস নাগাদ স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলে জানানো হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় র্যাগিং এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের মনোনিবেশের সুযোগ করে দেয়।
শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, সম্মেলনে অংশ গ্রহণ এবং গবেষণায় সাফল্য পেয়েছে। পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী মেরিটাইম আইন ও নীল অর্থনীতি বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামীতে স্থায়ী ক্যাম্পাসে আরও আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার উন্নয়নে গবেষণা ও নীতিনির্মাণে ভূমিকা চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়েছে।





