শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জ্বালানি সংকটে মালির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ

মালির সামরিক সরকার জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের সব স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। শিক্ষামন্ত্রী আমাদু সি সাভান রোববার এক ঘোষণায় জানান, জ্বালানির অভাবে শিক্ষক ও কর্মীদের চলাচলে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাই ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত থাকবে। সরকার আশা করছে, ১০ নভেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে শিক্ষাকার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যাবে।

সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতা বজায় থাকবে। তবে জরুরি সেবা, উদ্ধারকাজ এবং গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তা চালু থাকবে।

জ্বালানি সংকটের সূত্রপাত সেপ্টেম্বর মাসে। তখন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী জামায়াত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে জ্বালানি আমদানিতে অবরোধ আরোপ করে। তারা সেনেগাল ও আইভরি কোস্ট থেকে আসা ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে মালিতে জ্বালানি প্রবেশ বন্ধ করে দেয়।

জেএনআইএম জানিয়েছে, এটি গ্রামীণ এলাকায় জেরিক্যানে জ্বালানি বিক্রিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ হিসেবে করা হয়েছে। তবে সরকার বলেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল বিদ্রোহীদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা। অবরোধের ফলে মালির অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়েছে, পণ্যদ্রব্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং পেট্রল স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।

দীর্ঘ এক দশক ধরে মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার জঙ্গি হামলা ও অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালের অভ্যুত্থানের পর মালির সেনাশাসন ফরাসি বাহিনীকে বিতাড়িত করে রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনারের সহায়তা নিয়েছিল। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি তেমন উন্নতি হয়নি বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন