শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করছি। কেউ কেউ বলছেন উপদেষ্টারা নাকি ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থান চান—আমার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সহকর্মী ফাওজুল কবির খান প্রস্তাব দিয়েছেন, একটি অধ্যাদেশ আনা হোক যাতে বর্তমান উপদেষ্টারা আগামী নির্বাচিত সরকারের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী না হতে পারেন। আমি মনে করি, সরকার যদি এমন কোনো অধ্যাদেশ জারি করে, সেটিই হবে সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ।”
খালিদ হোসেন বলেন, “রাজনৈতিক নেতারা বারবার বলছেন, কয়েকজন উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন ভবিষ্যতে সরকারে থাকার আশায়। আমি স্পষ্ট করে বলছি—যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তারা যদি আমাকে আমন্ত্রণও জানায়, আমি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেব না।”
নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, মন্দির, চার্চ, প্যাগোডা ও শ্মশান উন্নয়নে। এসব অর্থ সরকারি তহবিল থেকে আসে—সোনালী ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের অর্থ সংরক্ষিত থাকে, সেখান থেকেই বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা ধর্মনিরপেক্ষ, এটা কোনো ইসলামিক স্টেট নয়; বরং ব্রিটিশ আমল থেকে পাওয়া প্রশাসনিক কাঠামোর ধারাবাহিকতায় চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “শরিয়ত আমরা ব্যক্তিগত জীবনে পালন করি। কেউ মন্দিরে যাবেন কি না, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমি যতদিন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আছি, সব ধর্মীয় স্থানে যাওয়া আমার কর্তব্য। তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন শেষে দায়িত্ব শেষ হলে আর সেটি আমার দায়িত্ব থাকবে না।”
সম্প্রীতির প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “আমি সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি, ‘কঠিন চীবরদান’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলাম। জাতির ঐক্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় না থাকলে রাষ্ট্র কখনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না।”
ফেসবুকে নিজের সম্পর্কে ভুয়া খবর প্রচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে কেউ লিখেছে—আমি মারা গেছি, ‘রেস্ট ইন পিস’। এমন কথারও একটা সীমা থাকা উচিত। মানুষ সত্যিই ভেবে বসেছে আমি মারা গেছি। একদিন অবশ্যই মরব, কিন্তু এখনো নয়।”
নিজ কাজের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ১৫ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে আরও দুই-তিন মাস দায়িত্বে থাকব। জাতিই ঠিক করবে আমরা কতটা সফল হয়েছি। আমি এক টাকার দুর্নীতিও করিনি। হাজিদের সাড়ে আট কোটি টাকা ফেরত দিয়েছি, সৌদি আরবে থাকা এজেন্সির ৩৯ কোটি টাকাও উদ্ধার করে ফেরত দিয়েছি। তবে ১৬-১৭ বছরের জটিলতা দেড় বছরে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়, তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।”





