মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেখ হাসিনাকে শাস্তি না দিলে শহীদ ও আহতদের প্রতি অবিচার হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আসামিদের শাস্তি না দিলে শহীদ ও আহতদের প্রতি অবিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এমন মন্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার শুনানিতে যুক্তি উপস্থাপনকালে করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জুলাই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২২ অক্টোবর) আসামিপক্ষের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

মো. আমির হোসেন যুক্তিতর্কে বলেন, এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আনা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা ও কামাল কোনো ষড়যন্ত্র করেননি এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ আখ্যায়িত করে হামলার উসকানি দেয়ার অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

আইনজীবী আরও বলেন, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা ছিল, যা কোনো অপরাধ নয়। ড্রোন থেকে গুলি চালানোর কোনো প্রমাণ নেই এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি করলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হত, যা হয়নি। তিনি প্রসিকিউশনের কল রেকর্ডের অডিওতে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, একক ফরেনসিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এসব প্রমাণ গ্রহণ করা উচিত নয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন। এছাড়া তাদের অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব দেন। মামলার আরেক আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের শাস্তি নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়।

মামলায় মোট তিন আসামি রয়েছেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তবে মামুন পরে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন