রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পশ্চিম তীর দখলের ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব আইন পাসের পথে

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পশ্চিম তীর দখলকৃত অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। ১২০ সদস্য বিশিষ্ট পার্লামেন্টে মাত্র ২৫-২৪ ভোটের ব্যবধানে বিলটি প্রথম ধাপে পাস হওয়ায় ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ঝড় তুলেছে।

বিলটি এখন নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে পাঠানো হবে, যেখানে এর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আরও আলোচনা হবে। পাস হলে পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের পূর্ণ কর্তৃত্ব দাবি করা হবে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসনের প্রতি স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জটিল। মাত্র এক মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরের সংযুক্তিকরণকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ভোটের দিনই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েল সফরে ছিলেন, যা এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

বিলটি উত্থাপন করেছেন অতিদানপন্থি নোয়াম পার্টির নেতা আভি মাওজ। যদিও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টি বিলের বিরোধিতা করেছেন, তবুও জোটের কিছু সদস্য বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

বিরোধীদলীয় এমপি ইউলি এডেলস্টেইন নেতানিয়াহুর অবস্থানের বিপরীতে নির্ণায়ক ভোট দিয়ে বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের ভূমিতে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার দিন।”

অপরদিকে, বিরোধীদলের প্রস্তাবিত আরেকটি বিলও পাস হয়েছে, যা পশ্চিম তীরের মালে আদুমিম বসতি সংযুক্ত করার দাবি জানায়।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই আইনকে ‘অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। হামাসও এটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, সৌদি আরব, জর্ডানসহ অন্যান্য দেশ এই সিদ্ধান্তকে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তি ধ্বংস এবং ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার হরণ হিসেবে দেখছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় সাত লাখ ইসরায়েলি অবৈধ বসতিতে বসবাস করছে। ২০২৪ সালের জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক আদালত জানিয়েছিল, এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করা উচিত।

শেয়ার করুন