মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাকসু নির্বাচনে শেষ সময়ে,নবীনদের সমর্থন পেতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

অপু দাস, (স্টাফ রিপোর্টার) রাজশাহী :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে পুরো ক্যাম্পাসে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) প্রচারণার শেষ দিন। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে পারবেন। নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের জোর প্রচারণা, স্লোগান আর কর্মতৎপরতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠান সোমবার ক্যাম্পাসে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। দিনব্যাপী কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংলগ্ন এলাকায় নবীন শিক্ষার্থীদের ঘিরে প্রার্থীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের মিলনায়তনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তবুও প্রার্থীরা বাইরে দাঁড়িয়ে নবীনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এদিন প্রায় চার হাজার নতুন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। এই নবীনরাই এবার প্রথমবারের মতো রাকসু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন—যা এবারের নির্বাচনের গতিপ্রকৃতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের সদস্যরা প্রচারণায় ছিলেন সবচেয়ে সক্রিয়। প্যানেলটির ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর বলেন, “নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমরাই আন্দোলন করেছি। তাই তাদের সমর্থন আমাদের প্রতি থাকবে বলে আশা করি।” তাঁর দাবি, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার পুনঃপ্রাপ্তি আসলে এই প্যানেলের ধারাবাহিক আন্দোলনেরই ফল।
একই প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এষাও জানান, “নবীনদের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।”
প্রচারণায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেন সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহরিয়ার আলম। বাউলের সাজে সমর্থকদের নিয়ে পরিবহন মার্কেটের আমচত্বরে আয়োজন করেন গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—যা প্রচারণায় এক নতুন রঙ যোগ করে। তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে—‘মিলন হবে কত দিনে…’।
অন্য প্যানেলগুলোকেও পিছিয়ে থাকতে দেখা যায়নি। আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল, সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ এবং বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নিজেদের পরিচিতি ও অবস্থান স্পষ্ট করতে মাঠে ছিলেন সরব।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, এবারের রাকসু নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব বাছাই নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অংশগ্রহণ পুনরুদ্ধারের প্রতীক। নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও অনেকে মনে করছেন।
আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন। প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
শেয়ার করুন