বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন ও গণভোটে নিয়ে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এরইমধ্যে নির্বাচনে ভোটারদের জন্য করা ভোটার স্লিপে প্রার্থী নাম ও প্রতীক ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, আগের নিয়ম অনুযায়ী ভোটার স্লিপে প্রার্থী নাম ও প্রতীক থাকতো না। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে ভোটার স্লিপ করা যাবে। বলেন, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে নির্বাচনি উপকরণ বিতরণ শুরু হবে। সকাল থেকে শুরু হলে সন্ধ্যার মধ্যে সব ধরনের উপকরণ কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে বলে আশা করি।
বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য কমিশনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন। এ পর্যন্ত ২৯৯টি আসনের সব ব্যালট পেপার চলে গেছে। সব নির্বাচনি উপকরণও চলে যাচ্ছে। ব্যালট পেপার রিটার্নিং অফিসারের কাজ কার্যালয় থেকে পর্যাক্রমিকভাবে অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে চলে যাচ্ছে।
ইসির পরিপত্রে বলা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর নির্বাচনি পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোট প্রদানের হারের প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে ফল প্রকাশ করা হবে। এ কেন্দ্রের কার্যক্রম ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে বেসরকারি ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
আজ থেকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কেউ সেখানে অবস্থান করতে পারবেন না।
পাশাপাশি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পরিবহণ ও যানবাহনের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা-
নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে যানবাহনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তার আওতামুক্ত থাকবে ডাক বিভাগের যানবাহন। পোস্টাল ব্যালট পরিবহণের সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে অবস্থানরত যোগ্য ভোটারদের জন্য ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট’-এ ভোটদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ সব ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডাক অধিদপ্তরকে। তাই জরুরি প্রয়োজনে ডাক বিভাগের যানবাহনগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রচার-প্রচারণা বন্ধ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে।
যেভাবে ফলাফল পাওয়া যাবে-
ভোটগ্রহণ চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ২ ঘণ্টা পর পর ভোট প্রদানের হার সংগ্রহ করবে ইসি।
বার্তা শিট প্রস্তুত ও প্রেরণ
ভোটগ্রহণ শেষে ‘বার্তা প্রেরণ শিট’ এর মাধ্যমে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল প্রেরণ করার লক্ষ্যে নির্ধারিত নমুনা (পরিশিষ্ট-ক) সংযুক্ত করা হলো। উল্লিখিত বার্তা ফরমে ক্রমপূঞ্জিত আকারে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ইন্টারনাল সাইটে নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার একাউন্টে প্রেরণ করতে হবে। ইন্টারনাল একাউন্টে বার্তা প্রেরণে সমস্যা হলে অথবা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ই-মেইলে প্রেরণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার সঙ্গে নির্ধারিত টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রেরিত বার্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং দ্রুততার সঙ্গে বার্তা প্রদানের জন্য টেলিফোন বা মোবাইলে যোগাযোগ করবেন। প্রতিটি বার্তা শিটে রিটার্নিং অফিসার নিজে স্বাক্ষর করবেন। কোনো কারণে রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষর করতে না পারলে আংশিক ফলাফলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অথবা দায়িত্বশীল অন্য কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বার্তা প্রেরণ করতে পারবেন। এজন্য অবশ্যই উক্ত কর্মকর্তাদের নমুনা স্বাক্ষর সত্যায়িত করে ভোটগ্রহণের পূর্বেই (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অঞ্চল ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করতে হবে। তবে চূড়ান্ত বার্তা শিট অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরে প্রেরণ করতে হবে এবং আরএমএস এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপলোড করতে হবে।
ফলাফল ব্যবস্থাপনা ও প্রেরণ: প্রত্যেক নির্বাচনি এলাকার জাতীয় সংসদ এবং গণভোটের বেসরকারি ফলাফল যথাযথভাবে প্রাপ্তির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে ইএমএস সফটওয়্যার এর ফলাফল ব্যবস্থাপনা/গণভোট ফলাফল ব্যবস্থাপনা মডিউল ব্যবহার করতে হবে। উল্লিখিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য প্রেরণের জন্য প্রযোজনীয় সংখ্যক জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই সফটওয়্যারে এক্সেস করার জন্য ফলাফল সংগ্রহ এবং ঘোষণা কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য জেলা/উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে সরবরাহকৃত গ্রামীণ এবং টেলিটকের সীম সম্বলিত মডেম ব্যবহার করবেন। এর বাইরে ফলাফল সংগ্রহ এবং ঘোষণা কেন্দ্রে লোকাল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রত্যেক সহকারী রিটার্নিং অফিসার তার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের ফলাফল এন্ট্রি করার জন্য দুইজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করবেন। প্রতি ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের ফলাফল এন্ট্রি করার জন্য ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার এবং নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জগঝ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করে ল্যাপটপ, স্ক্যানার এবং প্রিন্টারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ভোটকেন্দ্রের ফলাফল জগঝ এ এন্ট্রি করার সময় একই ভোটকেন্দ্রের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একই সাথে এন্ট্রি নিশ্চিত করবেন।
মোবাইল ফোন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটার ও প্রার্থীসহ সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় গোপন কক্ষে (মার্কিং প্লেস) মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অনুমোদিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন
(ক) ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার;
(খ) ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ;
(গ) ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য;
(ঘ) নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনরত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক; এবং
(ঙ) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট এবং ভোটার।
তবে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে কেউই গোপন কক্ষে (মার্কিং প্লেস) মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
এছাড়া ভোটগ্রহণের কাজে নিয়োজিত সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট এবং উপরে উল্লেখিত নির্দিষ্ট পুলিশ ও আনসার সদস্য ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক
৫৪০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এসেছেন। আমন্ত্রিতদের মধ্য থেকে ৬০ জন তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও জর্জিয়া থেকে সাংবাদিক পর্যবেক্ষক আসছেন। আল জাজিরা, রয়টার্স, ডয়েচে ভেলে ও এপি থেকেও সাংবাদিক আসছেন। এছাড়া ইইউ থেকে ২২৩ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, আইআরআই থেকে ১২ জন পর্যবেক্ষক আসছেন।
ধাপে ধাপে জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া
১. ভোটের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই কিছু তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।
তথ্য সংগ্রহ: ভোটারদের নিজস্ব ভোটার নম্বর, ভোট কেন্দ্র এবং তালিকার ক্রমিক নম্বর আগেভাগেই জেনে নিতে হবে।
সহায়তা নম্বর: যেকোনো তথ্যের জন্য নির্বাচন কমিশনের টোল-ফ্রি নম্বর ১০৫-এ কল করে বিস্তারিত জানা যাবে।
ভোটার স্লিপ: কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভোটার নম্বর লেখা নোট বা আগে থেকে সংগৃহীত ভোটার স্লিপ সঙ্গে রাখা আবশ্যক।
২. ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও ভোটার শনাক্তকরণ
ভোটের দিন সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
লাইনে দাঁড়ানো: কেন্দ্রে প্রবেশের পর ভোটারদের নির্ধারিত লাইনে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়াতে হবে। প্রবেশের আগে বাইরের বুথ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংবলিত স্লিপ সংগ্রহ করা যাবে।
শনাক্তকরণ: প্রথম পোলিং অফিসার ভোটারের নাম ও পরিচয় যাচাই করবেন। পোলিং এজেন্টরা তাদের তালিকায় ভোটারকে চিহ্নিত করার পর দ্বিতীয় পোলিং অফিসার ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে অমোচনীয় কালির চিহ্ন দেবেন।
৩. ব্যালট পেপার গ্রহণ ও প্রকারভেদ
ব্যালট পেপার: শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে ভোটারকে দুটি আলাদা ব্যালট পেপার দেওয়া হবে-জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট পেপার ও গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট পেপার।
যাচাই: ব্যালট পেপার হাতে পাওয়ার পর তাতে অফিশিয়াল সিল এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।
৪. গোপন কক্ষে ভোট প্রদান ও ব্যালট ভাঁজ
ব্যালট পেপার নিয়ে ভোটারকে গোপন বুথে প্রবেশ করতে হবে।
সিল প্রদান: পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক বা গণভোটের নির্ধারিত ঘরে সর্তকতার সঙ্গে সিল দিতে হবে।
সঠিক ভাঁজ: সিলের কালি যেন ব্যালটের অন্য কোনো অংশে না লাগে, সেজন্য প্রথমে মাঝ বরাবর লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করতে হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ভাঁজ করে গোপন কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
৫. ভোট সম্পন্ন ও কেন্দ্র ত্যাগ
ভোট প্রদান শেষে ভোটারকে মার্কিং সিলটি কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে। এরপর দায়িত্বরত কর্মকর্তার সামনে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার দুটি ফেলতে হবে। ভোট দেওয়া শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।
পোস্টাল ব্যালট কীভাবে গণনা হবে?
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালট গণনা ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনাবলী জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণনা শুরুর প্রস্তুতি ও প্রাথমিক পদক্ষেপ
প্রিসাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করে পোস্টাল ভোট গণনায় প্রিসাইডিং অফিসারের উপস্থিতি ফর্মে স্বাক্ষর করবেন।
গণনা কার্যক্রমের সময় আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন।
ভোটগ্রহণের দিন বিকাল সাড়ে ৪টার পর রিটার্নিং অফিসার পোস্টাল ব্যালট ভর্তি ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন।
উপস্থিত পরিদর্শক, সাংবাদিক ও পোলিং এজেন্টদের সামনে ব্যালট বাক্সের বারকোড নম্বর উচ্চস্বরে পাঠ করতে হবে।
প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনায় পোলিং অফিসাররা পোস্টাল ব্যালট ও ঘোষণাপত্রসংবলিত খাম খুলবেন।
ঘোষণাপত্র এবং সাধারণ ভোট ও গণভোটের ব্যালটসম্বলিত ছোট খামগুলো আলাদা করে রাখবেন।
ব্যালট পেপার ও ঘোষণাপত্র যাচাইকরণ
প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম-৭ ব্যবহার করা হবে, যেখানে প্রার্থীর নাম না থাকলেও রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক মুদ্রিত থাকবে।
দেশে অবস্থানরত ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম-৭ (ক) ব্যবহৃত হবে, যেখানে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উভয়ই মুদ্রিত থাকবে।
ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর আছে কি না তা নিবিড়ভাবে যাচাই করতে হবে।
ঘোষণাপত্র না থাকলে বা স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট পোস্টাল ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে এবং তাতে ‘বাতিল’ সিল দেওয়া হবে।
বাতিলকৃত ব্যালটের ওপর ‘ঘোষণাপত্র নাই’ অথবা ‘ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর নাই’ উল্লেখ করে প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষর করবেন।
ভোট গণনা ও ফলাফল লিপিবদ্ধকরণ
প্রিসাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী পোলিং অফিসাররা সাধারণ ভোট ও গণভোট আলাদাভাবে গণনা করবেন।
আসনভিত্তিক প্রার্থীদের প্রাপ্ত বৈধ ব্যালট আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে।
সাধারণ ভোটের ফলাফল ফর্ম-১৬(ক)-তে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
গণভোটের ফলাফল (হ্যাঁ/না অনুযায়ী) ফর্ম-৪-এ লিপিবদ্ধ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে উপস্থিত পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর ফলাফল ফরমে নিতে হবে।
প্যাকেটজাতকরণ ও সংরক্ষণ
প্যাকেট ১: প্রার্থীদের পক্ষে প্রদত্ত সকল বৈধ ব্যালট।
প্যাকেট ২: অবৈধ বা বাতিলকৃত ব্যালট বা ফর্ম-৭।
প্যাকেট ৩: প্যাকেট ১ ও ২ একত্রে এই প্যাকেটে ভরে মুখ বন্ধ করতে হবে।
প্যাকেট ৯: পোস্টাল ব্যালট পেপারের রেজিস্টার (ফর্ম-১২)।
প্যাকেট ১৪: ফলাফল বিবরণী (ফর্ম-১৬ ক)।
প্যাকেট ১৬: ফেরত খাম (ফর্ম-১০ ও ১০-খ), স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র (ফর্ম-৮) এবং ত্রুটিপূর্ণ বাতিল ঘোষণাপত্র ও সাদা খাম (ফর্ম-১০ ক)।
গণভোটের ক্ষেত্রে বৈধ ব্যালট প্যাকেট ১-এ, অবৈধ ব্যালট প্যাকেট ২-এ এবং ফলাফল বিবরণী (ফর্ম-৪) প্যাকেট ৬-এ রাখতে হবে।
নির্বাচন ঘিরে বিদেশি ৫৪০ সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহ করবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন।
মেট্রোরেল চলবে
ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (এমটিসিএল) জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
ভোটকেন্দ্র কোথায়, খুঁজে বের করবেন যেভাবে
‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর দিয়ে নিজের ভোটকেন্দ্র কোথায়, তা খুঁজে বের করতে পারবেন।
ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তাতে বলা হয়, Smart Election Management BD অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। এ অ্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান (জিও লোকেশন), ছবি, দূরত্ব ও ম্যাপ প্রভৃতি তথ্য দেখা যাবে।
এছাড়া এই অ্যাপ থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তথ্য, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামাসহ যাবতীয় তথ্য, নির্বাচনি ফলাফল এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট তথ্য জানা যাবে।




