বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রচারনীতি

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রচারনীতি
সাধারণ সত্য প্রচারেই প্রসার। প্রচারের উদ্দেশ্য পণ্য, সেবা, ব্যক্তির গুণাবলির জানান দেওয়া। নির্বাচনী ডামাডোলে প্রচারের গুরুত্ব অপরিসীম। নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রিয় নবী (সা.) তাঁর উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার উম্মত কখনো বিভ্রান্তির ওপর একমত হতে পারে না।

’ এ জন্যই শান্তি নিরাপত্তার স্বার্থে ইসলামে প্রচারের নীতিমালা হলো— 

সততা

ঈমানি চেতনা ঈমানদারকে মিথ্যাচার থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিরত রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মিথ্যা তারাই বলে থাকে, যারা আল্লাহর আয়াতে (বিধানে) ঈমান রাখে না।’

(সুরা : নাহল, আয়াত : ১০৫)

তাঁরই নির্দেশনা, ‘আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্য কথা বলো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৭০)

সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ পরিহার

প্রতিপক্ষকে হেয়প্রতিপন্ন করা অথবা যেনতেনভাবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহিরের জন্য সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে ইনিয়ে বিনিয়ে প্রকৃত অবস্থা আড়াল করা ইসলাম সমর্থন করে না।

মহান আল্লাহর নির্দেশ, তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত কোরো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন কোরো না। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৪২) 

অন্যত্র আছে, তবে কি তোমরা কিতাবের কিছুর ওপর ঈমান আনো, আর কিছুর সঙ্গে কুফরি করো।

(সুরা : বাকারা, আয়াত : ৮৫)

এ আয়াতেও প্রমাণিত হয়, শ্রোতা ও সম্বোধিত ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মিথ্য প্রতিশ্রুতি পরিহার

প্রতিশ্রুতি রক্ষায় মহান আল্লাহর আদেশ, তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কোরো; অবশ্যই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।

 

(সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৪)

মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা মুনাফিকি। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি : যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে এবং যখন আমানত রাখা হয় খিয়ানত করে। (বুখারি)

সৌজন্য ও ধৈর্য

যিনি যে কাজের প্রচারক হোন না কেন তাকে অবশ্যই সৌজন্যশীল, বিনয়ী ও ধৈর্যের অধিকরী হতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তার সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে কথা বলো, যেন উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ৪৪)

আদর্শিক কৌশল

ধর্ম অথবা দুনিয়াবি প্রচারের ক্ষেত্রে কৌশল হতে হবে যৌক্তিক ও আকর্ষণীয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি তোমার প্রজ্ঞা, কৌশল ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে (মানুষকে) তোমার প্রভুর দিকে আহবান করো।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫) 

আদর্শিক প্রতিফলন নেই, এমন কথা বলা যাবে না। এ প্রসঙ্গে সতর্কবাণী, ‘তোমরা যা করো না তা কেন অন্যকে করতে বলো?’ (সুরা : সাফ, আয়াত : ০২)

বিরক্তিকর আচরণ পরিহার

শ্রোতার জ্ঞানবুদ্ধির প্রতি খেয়াল রেখে কথা বলতে হবে। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অপাত্রে জ্ঞান রাখে সে যেন শূকরের গলায় মুক্তার হার পরায়।’ (ইবনু মাজাহ)

সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখা

শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনুকূল পরিবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি করা পবিত্র কোরআনের শিক্ষার পরিপন্থী : ‘তোমরা (কখনো) তাদের মতো হয়ে যেয়ো না, যাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং (নিজেদের মধ্যে) নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে; এরাই হচ্ছে সেসব মানুষ যাদের জন্য কঠোর শাস্তি আছে।’

(সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৫)

সংযম বজায় রাখা

কঠিন মুহূর্তে মূর্খের বেহুদা কর্ম নয়, বরং বিনম্রতার মাধ্যমে ঈমানের প্রকাশ ঘটে : ‘এবং রহমানের (দয়াময়) বান্দা তো তারাই যারা বিনয়ের সঙ্গে চলাফেরা করে এবং যখন অজ্ঞ-মূর্খরা তাদের সম্বোধন করে তখন তারা বলে সালাম (শান্তি)…।’

(সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৩)

আবার বলা হলো—‘(দয়াময়ের বান্দা) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না, যদি অহেতুক বিষয়ের সামনে গিয়ে পড়ে, তবে ভদ্রভাবে তা অতিক্রম করে…।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭২)

বস্তুত ইবাদত, ইখলাস, আধ্যাত্মিকতা, মানবসেবা, মুসলিম ভ্রাতৃত্বের চেতনায় ইসলাম সব সময় উদারতা ও সহজপন্থায় বিশ্বাসী। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘সহজ করো, কঠিন করো না; সুসংবাদ জানিয়ে আহবান করো ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দিয়ো না।’ (বুখারি)

শেয়ার করুন