ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এক চরম সামরিক সংকটের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আকাশপথে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর (প্রতিরোধক) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এতটাই কমে গেছে, এখন দেশগুলো কোন লক্ষ্যবস্তুকে রক্ষা করবে আর কোনটিকে করবে না, তা নিয়ে বাছ-বিচার করতে বাধ্য হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের ট্রাম্প প্রশাসন এই মুহূর্তে বৈশ্বিক অস্ত্র সংকটের অজুহাতে তাদের মিত্র দেশগুলোর বারবার করা পুনঃসরবরাহের অনুরোধে কার্যত কোনো সাড়া দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। মিডেল ইস্ট আই-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের ভাণ্ডার পূর্ণ করার আবেদন জানালেও মার্কিন প্রশাসন সেই প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক মাসের উৎপাদিত সমরাস্ত্রের তুলনায় মাত্র কয়েক দিনে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অস্ত্র ব্যয় হয়েছে। গত ১ মার্চ দুবাইয়ের আকাশে ইরানি প্রজেক্টাইল ধ্বংসের যে দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, তা এই ভয়াবহ যুদ্ধের তীব্রতাকেই প্রকাশ করে। সরকারি তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাত ২৪১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩৮৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে বাহরাইন ১০৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭৭টি ড্রোন ঠেকানোর দাবি করেছে। সাধারণত একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে অন্তত দুটি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, যা দেশগুলোর অস্ত্রাগারকে দ্রুত শূন্য করে দিচ্ছে। বর্তমানে দেশগুলো থাড এবং প্যাট্রিয়টের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বছরে মাত্র ৬০০টির মতো প্যাট্রিয়ট প্যাক-থ্রি ইন্টারসেপ্টর তৈরি হয়।
এই সংকটের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এর রেশ ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত। চীনের সাথে ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য মোতায়েন করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এখন বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিতে হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং ইতোমধ্যেই সিউলের আপত্তি সত্ত্বেও সেখান থেকে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। এমনকি তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো রাডার ঘাঁটিকে কেন্দ্র করেও উত্তজনা বাড়ছে, যেখানে পুরোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে জার্মানি থেকে আনা উন্নত প্যাট্রিয়ট সিস্টেম মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা নির্ভরশীলতা এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।





