অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীর আলিগঞ্জ এলাকায় বুধবার সন্ধ্যায় ঘটে গেল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যা এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কাঁপিয়ে দিয়েছে। নিহত হয়েছেন জামায়াত কর্মী মো. অমর ফারুক ওরফে শান্ত (২৪)।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, আলিগঞ্জ পূর্বপাড়ার একটি চায়ের দোকানের সামনে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে শান্তের সঙ্গে রিপন ও আরও কয়েকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলেই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিলে ধারালো চাকু ও চাপাতি দিয়ে শান্তকে একাধিক আঘাত করা হয়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে রাজপাড়া থানার ওসি জানিয়েছেন, শান্তর মামা ডালিমের সঙ্গে রিপন, নয়ন, রুবেল ও মঞ্জুর দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। পুলিশের ধারণা, এই বিরোধ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা দাবি করছেন, শান্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, শান্ত সুদের টাকার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং রিপন ও তার সহযোগীরা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে রাজপাড়া থানার বিশেষ টিম রাজশাহী জেলার বাঘা থানার নারায়নপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি মো. রিপন (৪৩)কে গ্রেপ্তার করে। রিপন বসুয়া এলাকার বাসিন্দা। মামলায় মোট তিনজন আসামি রয়েছে। গ্রেপ্তার রিপনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে, আর বাকি পলাতক আসামিদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
শান্তের মৃত্যুতে আলিগঞ্জ এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত প্রেক্ষাপট উদঘাটন ও দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার মধ্য দিয়ে আবারও এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।





