মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
* To read Daily Banglar Chokh News in different languages ​​by Google Translator, going to `Select Language' option in the main menu.* ডেইলি বাংলার চোখের সংবাদ গুগল ট্রান্সলেটর দ্বারা বিভিন্ন ভাষায় পড়তে মেইন মেনুতে সিলেক্ট ল্যাংগুয়েজ অপশন এ যেয়ে ভাষা নির্ধারণ করুন* गूगल अनुवादक द्वारा दैनिक बांग्ला आई न्यूज को विभिन्न भाषाओं में पढ़ने के लिए, मुख्य मेनू में भाषा का चयन करें विकल्प पर जाकर भाषा का चयन करें।*

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বয়হীনতা!!!

কে এম আর শাহীন
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১, ৪:২০ অপরাহ্ণ

মানব জীবন অত্যন্ত রহস্য ঘেরা, যেন মেঘের আড়ালে সূর্য্যরে চকচকে হাসির মত। মানব সভ্যতার মূলে রয়েছে শিক্ষা। আর সে শিক্ষায় যদি পূর্ণাঙ্গ মানুষ গড়ার তাগিদ থাকে তাহলে সে শিক্ষা গ্রহন করার পর একটা জাতিকে আর পিছন ফিরে দেখতে হয় না। কারন একটা জাতি ও রাষ্ট্রকে উন্নত করতে হলে অবশ্যই সে জাতিকে আগে সুশিক্ষিত হতে হবে। সুশিক্ষিত সুনাগরিক উন্নত জাতি ও রাষ্ট্রের মূল উপাদান। তাই তৃতীয় বিশ্বের এইদেশর জন্য সুশিক্ষিত সুনাগরিক গড়া অতীব জরুরী। আর এই কাজটি করতে হলে কতকগুলো দিকে নজর দিতে হবে।

যেমন:

(১) পরীক্ষা : ছাত্র জীবনে পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরীক্ষা মানেই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নয়, বরং পুরো শিক্ষা পদ্ধতির পরীক্ষা। এ দিয়ে একজন শিক্ষার্থী কতটুকু শিক্ষা গ্রহন করতে পারল তা যেমন যাচাই হয়, আবার পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা কতটুকু শেখাতে পারল তাও বোঝা যাবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলো হলঃ

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সিলেবাস, পাঠদান পদ্ধতি, সরকারসহ অনেক কিছুর ভুমিকা যা আমাদের দেশে গৌণ হয়ে গিয়েছে। তাই শুধু শিক্ষার্থীর মূল্যায়নটি যেন পরীক্ষা ও শিক্ষা পদ্ধতির মূল বিষয় হিসাবে গণ্য হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল যেন পরীক্ষায় সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িযেছে।

যেন শিক্ষার্থীর চেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, যার ফলে পরীক্ষায় রেজাল্ট ভাল করার ও মুল্যায়ন পদ্বিতির দূর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে কোচিং সেন্টারগুলো । বোর্ড পরীক্ষাসহ বিভিন্ন চাকরীর পরীক্ষাগুলোতেও এ সুযোগ নিচ্ছে এই সমস্ত মেরুদন্ডহীন কোচিং সেন্টারগুলো, যে কারণে এ সকল পরীক্ষায় কোচিং, গাইড বই ও বই লেখকদের সাফল্যের শতভাগ নিশ্চয়তাসহ সাজেশনের প্রচার দিয়ে চলছে শিক্ষা বাণিজ্যের মহোৎসব। এর ফলে এ সমস্ত কোচিং সেন্টার এবং গাইড বই লেখকদের সাথে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত ঘটনাও ঘটছে অহরহ। আমরা সবাই জানি ব্যবসা মানেই মুনাফা।

আর সে শিক্ষা যখন মুনাফার হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন ছাত্র, শিক্ষক ও প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সাথে যুক্ত অসৎ কর্মকর্তা – কর্মচারীদের মাঝে দেশ, জাতি, মা, মাটি, মানুষ, নীতি, নৈতিকতা, মূল্যবোধ আর কাজ করে না। তাই শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণের সর্বগ্রাসী নীতি থেকে সরে এসে শিক্ষার সার্বজনীন নীতির অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ জাতিয় নৈতিক অবক্ষয় থেকে জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

আর এ অবক্ষয় রোধ করা না গেলে মহান পেশায় নিয়োজিত শিক্ষকরাও জড়িয়ে পড়ছে নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির সাথে। ফলে কলুষিত হবে শিক্ষক সমাজ যার প্রভাব পড়বে ভবিষ্যত প্রজন্মের উপর যা সুনাগরিক গড়ায় বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

কারন একজন শিক্ষক যদি দূর্নীতিগ্রস্থ হয় তার প্রোডাক্ট দূর্নীতিগ্রস্থ হবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই একজন শিক্ষার্থী যদি শিক্ষকমুখী হয়ে ওঠে তবে সে শিক্ষক তার কাছে ধ্যান, জ্ঞান ও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় চরিত্রে পরিনত হতে পারে।

কারন আমরা জানি পৃথিবীর অন্যতম মহান পবিত্র পেশা হল শিক্ষকতা। আর এই মহান পবিত্র পেশায় যিনি নিজেকে নিবেদিত করেন তিনি জাগতিক সমৃদ্ধি ও সম্পদ প্রত্যাশা করেন না। ফলে সমাজের সৃজনশীল মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত মর্যাদাশীল ব্যক্তিত্ব।

শিক্ষা প্রসারের সময়কাল থেকে নির্লোভ নিঃস্বার্থ ব্যক্তিরাই শিক্ষার ব্যাপক পরিসর সুন্দর সমাজ এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণে অগ্রদূত হিসাবে আলোকিত, বিকশিত মানুষ সৃষ্টির জন্য শিক্ষাঙ্গনকে নিজের মত করে ব্যবহার করেছেন।

সুদৃঢ় চরিত্রের অধিকারী দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিরাই মহান পেশায় নিয়োজিত হতেন। অর্থ বা বিত্ত দিয়ে নিজেকে মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসা বা শ্রদ্ধাকেই মূল্যায়ন করতেন।

একজন সৎ শিক্ষকই সবচেয়ে বড় সমাজ সংস্কারক। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর বড় উদাহরণ।

নিজ শিক্ষক কালিকান্ত চট্ট্যপাধ্যায়ের জন্য পরম ভক্তি শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরুপ চাকুরির প্রথম মায়নার টাকা দিয়ে একগুচ্ছ বস্ত্র কিনে পরম গুরুকে উপহার দিয়ে গভীর প্রশান্তি লাভ করেছিলেন। রাজা বাদশা সাধারন মানুষ সবার কাছে শিক্ষক পরম শ্রদ্ধার পাত্র।

তার উপমা বাদশাহ আলমগীর নিজেই। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন তাঁর পুত্রের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন যেচিঠি পরবর্তীতে ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করে।

চিঠির উক্তি গুলোর বাংলা অনুবাদ এমন:

মাননীয় মহোদয়,

আমার পুত্রকে জ্ঞানার্জনের জন্য আপনার কাছে প্রেরণ করলাম। তাকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবেন এটাই আমার প্রত্যাশা। আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চাইতে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মুল্যবান। এও তাকে শেখাবেন কিভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং কিভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ করতে হয়। হিংসা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাও তাকে দিবেন।

যদি পারেন নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে শেখাবেন। সে যেন আগেভাগেই একথা বুঝতে শেখে যারা পীড়নকারী তাদেরকে সহজেই কাবু করা যায়। বইয়ের মাঝে কি রহস্য লুকিয়ে আছে, তাও তাকে শিখাবেন। আমার পুত্রকে শেখাবেন, বিদ্যালয়ে নকল করে পাশ করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক বেশী সম্মানজনক।

নিজের উপর তার যেন সুমহান আস্থা থাকে এমনকি সবাই যদি সেটাকে ভুলও মনে করে। তাকে শেখাবেন, ভদ্রলোকের প্রতি ভদ্র আচরণ করতে, কঠোরদের প্রতি কঠোর হতে।

আমার পুত্র যেন এ শক্তি পায় হুজুগে মাতাল জনতার পদাঙ্ক অনুসরন না করার। সে যেন সবার কথা শোনে এবং সত্যের পর্দায় ছেঁকে যেন শুধু ভালটাই গ্রহন করে এ শিক্ষাও তাকে দেবেন। সে যেন শেখে দুঃখের মাঝে কিভাবে হাসতে হয়।

আবার কান্নার মাঝে লজ্জা নেই সেকথা তাকে বুঝতে শেখাবেন। যারা নির্দয়, নির্মম তাদেরকে সে যেন ঘৃণা করতে শেখে আর অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ থেকে সাবধান থাকে।

আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরন করবেন কিন্তু সোহাগ করবেন না, কেননা আগুনে পুড়েই ইস্পাত খাঁটি হয়। আমার সন্তানের যেন অধৈর্য হওয়ার সাহস না থাকে, থাকে যেন তার সাহসী হবার ধৈর্য। তাকে এ শিক্ষাও দেবেন নিজের প্রতি তার যেন সুমহান আস্থা থাকে আর তখনই তার সুমহান আস্থা থাকবে মানব জাতির প্রতি।

ইতি

আপনার বিশ্বস্ত

আব্রহাম লিংকন

 

বড় পরিতাপের সাথে বলতে হয় নির্লোভ, নিঃস্বার্থ, সুদৃঢ় চরিত্রের, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন শিক্ষকের জন্য বাদশা আলমগীর অথবা আব্রহাম লিংকন এর মত অভিভাবকও প্রয়োজন।

কিন্তু এমন অভিভাবক তো দূরের কথা পারিপার্শ্বিক অবস্থাটাই যেন শিক্ষকতা পেশার প্রতিকুলে। খোদ সরকারই যেন বিমাতা সুলভ আচরণ করছে শিক্ষকদের সাথে। কেননা আজ আমেরিকার শিক্ষকদের মর্যদা কথাই বলেন বা পার্শবর্তী দেশ ভারতের শিক্ষকদের মর্যদা কথা বলেন।

তাদের রয়েছে সামাজিক মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় সম্মান, আলাদা সম্মানী অবকাঠামো সকল চাকুরি বিধির বাইরে শিক্ষকদের অবস্থান। পক্ষান্তরে আমাদের দেশের শিক্ষকদের মর্যাদা আজ সকল ক্ষেত্রে ভূলুন্ঠিত হচ্ছে সারা বছর, কোন না কোন স্তরের শিক্ষকদের থাকতে হয় আন্দোলনে। পৃথিবীর অন্যতম মহান পবিত্র পেশায় নিয়োজিত ব্যাক্তিদের তাদের অধিকার নিয়েই যদি আন্দোলন করতে হয় তাহলে তাদের সম্মান রক্ষা করবে কে ?

তারপর আবার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরিচালনা পর্ষদ নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট আপত্তিকর নিয়ম। যেমন একটি স্কুল বা কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হওয়ার মানদন্ড কি ?

তারপর তার কাজের পরিধি কি, কোনটা তার করা উচিৎ, কোনটা তার করা উচিৎ না তাও জানেনা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সভাপতির আসনে বসে থাকা মহাশয়রা। আবার ঐ মহাশয়দের তেল মাখানোর জন্য শিক্ষক নামের কলঙ্ক কিছু নামধারী শিক্ষক রয়েছে, যার ফলে অসহায় হয়ে পড়ে মেধাবী, আদশর্, নিষ্ঠাবান অনুকরনীয় চরিত্রের শিক্ষকরা।

তাই মনে হয় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তথাকথিত ম্যানেজিং কমিটি যেন ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’।

শুধু তাই নয় রাজনৈতিক দুরবৃত্তায়ণের মধ্যে দিয়ে যোগ্যতার কোন মাপকাঠি দিয়ে না মেপে যে ভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বানানো হয়, আবার ঠিক সে সভাপতির অধিনে যখন ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ হয় তখন সে প্রতিষ্ঠানের ১২টা বাজতেই বা কত সময় লাগবে, আর জাতিই বা সুনাগরিক আশা করবে কিভাবে।

তারপর আরেকটি সমস্যা যা অতীতে সারা দেশেই ব্যাপক ভাবে ঘটেছে সেটি হলো এক সময় ব্যাঙের ছাতার মত গজানো হাই স্কুল ও কলেজ। মেধাগত কারণে কোথাও কোন সুযোগ না পেয়ে যারা স্কুল, কলেজ খুলেছে পরে এমপিও ভুক্তির মাধ্যমে সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। তাতে বেকার সমস্যার সমাধান হলেও, মেধাবী জাতি গড়ার মত গ্ররুত্বপূর্ণ কাজে তারা কতটা ভূমিকা রাখবে তা নিয়েও রয়েছে জনমনে প্রশ্ন।

শুধু তাই নয় যারা এ ভাবে শিক্ষক হয়েছেন, আর যারা বিগত দিনে সরকারী নীতিমালার আলোকে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং এখন যারা নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হচ্ছেন তাদেরও নাই পর্যপ্ত প্রশিক্ষন। তাই এ সকল শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক ভাবে যথার্থ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে যোগ্য করে গড়ে তোলার এখনই সময়। না হলে জাতির কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ হবে না।

পিছিয়ে পড়বে এ স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা পিছিয়ে পড়বে দেশ। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ছিটে ফোটা দূর্নীতির জন্য টি, আই, বি রিপোর্ট দিয়ে দেওয়ায়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এতটাই ক্ষুদ্ধ যে, দেশের বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরদের নিয়ে সভা করেছেন এবং টি, আই, বি কতৃক রিপোর্ট সম্পর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন টি, আই, বি রিপোর্ট এর বিরুদ্ধে।

তাহলে কি আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর্নীতি রোধ করা যাবে? সর্বপরি শিক্ষাকে সকল রাজনীতির উর্ধে রেখে শিক্ষামন্ত্রী ও মন্ত্রনালয়কে আরো দায়িত্বশীল কথাবার্ত, কর্যকলাপের মাধ্যমে পুরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে দ্রুত উন্নতির পথে।

আসা যাক প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায়। একটি শিশুর বিদ্যা শিক্ষার সূতিকাগার হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিশুর জ্ঞানের উন্মেষ হওয়া উচিত মেধাবী, দক্ষ, নিবেদিতপ্রাণ, কর্মঠ ও অনুকরনীয় কিছু ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে অথচ বাস্তবতা বিপরীত!

অযোগ্য, অদক্ষ, অপরিণত বয়সীদের জয়-জয়াকার। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়াস নিঃসন্দেহে অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু সেটা এরকম একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে?

জীবনের মূল্যবোধ সৃষ্টির প্লাটফর্মটি এস,এস,সি পাশ(সম্প্রতি এইচ, এস,সি) একজন ব্যক্তির হাতে কিভাবে সংরক্ষিত হবে? যার নিজের জীবনের লক্ষ্য মীমাংসিত নয় সে কীভাবে শিশুকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করবে?

পক্ষান্তরে একজন উচ্চশিক্ষিত পুরুষ একই পদে চাকুরি করায় তার মূল্যায়নটিও ঐপর্যায়ে করা হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান নয়, পরিমাণই মুখ্য প্রতিপাদ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষিত ও মেধাবীরা প্রাথমিক শিক্ষকের পেশায় আসতে অনাগ্রহী।

যেখানে ভবিষ্যৎ নেই, সম্মান নেই, পদোন্নতি নেই আছে শুধু বৈষম্য আর সমন্বয়হীনতা, বঞ্চনা আর গ্লানি। একজন শিক্ষকের বেতন দিন মজুরের চেয়ে বেশি কি?

সাম্প্রতিক সময়ে যে ২৬ হাজার রেজিষ্টাড বেসকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে সে সকল শিক্ষকদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। কোথাও কোন সুযোগ না পেয়ে যারা বাড়ির পাশে বিদ্যালয় খুলে নিয়ে বসেছিল তারা আজ সরকার বাহাদুরের বদান্যতায় ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা!

আর যারা মেধার স্বাক্ষর রেখে নির্বাচিত হয়ে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুগের পর যুগ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে তারা হলো চরমভাবে বঞ্চিত ও অবহেলিত। পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহ হারাচ্ছে বেশির ভাগ মেধাবী ও প্রাজ্ঞ শিক্ষক।

 

ধন্যবাদ…!!!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By Uttoronhost.com