বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

দুই সন্তানের জননী নূরজাহান ১৪বছর সংসার করেও আজ রাস্তায়

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি / ২ বার দেখেছেন
হালনাগাদ : শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ৯:২৪ অপরাহ্ণ

ঝিনাইদাহ জেলার ভান্ডারি পাড়ার দুই সন্তানের জননী নূরজাহান খাতুন। ৬মাসের অন্তসত্ত্বা শিশুকে গর্ভাপাত করিয়ে তাকে তালাক দেন রাজবাড়ী জেলার তত্ত্বিপুর গ্রামের প্রবাস ফেরৎ স্বামী লিটন মন্ডল। বিয়ের ১৪ বছর সংসার করাকালে নূরজাহানের পরিবারের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েও ক্ষান্ত হয়নি নূরজাহানের শশুরবাড়ীর লোকজন। পৈশাচিক নির্যাতনের পর তালাক দিয়ে বাড়ি থেকেও বের করে দেন তার স্বামী। কারো কাছে বিচার না পেয়ে দাড়ে দাড়ে ঘুরছেন নূরজাহান খাতুন।

ঝিনাইদাহ জেলার শৈরকুপা থানার ভান্ডারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন ও স্ত্রী মালেকা খাতুনের সংসারে একমাত্র বড় মেয়ে নূরজাহান খাতুন ও ছোট ভাইসহ সাজানো সংসার । বাপ মা অনেক আদর করে নূরজাহানকে ২০০৭ সালে বিয়ে দেন রাজবাড়ী জেলা,পাংশা উপজেলার তত্তিপুর গ্রামের দুলাল মন্ডলের ছেলে লিটন মন্ডলের কাছে।

বাবা-মায়ের আদরের একমাত্র মেয়েকে সুখে থাকার জন্য জামাই লিটন মন্ডলকে ৬ লাখ টাকা দিয়ে বিদেশ পাঠান নূরজাহানের বাবা। বিদেশ গিয়েও ক্ষান্ত হয়নি লিটন মন্ডল স্ত্রী নূরজাহানের বাপের বাড়ী থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা এনে নিজের বাড়ীতে ঘর নির্মাণ করেন। এরপর আবারো যৌতুকের জন্য অমানবিক ও পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয় নূরজাহানের ওপর।

একসময় মেয়ে ও ছেলে সন্তান জন্ম নেয় লিটন ও নূরজাহানের সংসারে। তবে এতেও কোনো পরিবর্তন আসেনি নূরজাহানের জীবনে। যৌতুকের দাবীতে মূখে দুই বার ও কাগজে একবার নূরজাহানকে তালাক দেন লিটন মন্ডল। পরে যৌতুক নিয়ে আবারো সামাজিক ভাবে বিবাহ করেন তাকে। চলতি বছরের ২ শে মার্চ মেডিকেল রিপোর্টের দেখা দেয় আর একটি সন্তান রয়েছে নূরজাহানের গর্ভে ।

এই খবর পেয়ে লিটন মন্ডল তার ভাই,বাবা ও মা মিলে জোরপূর্বক অজ্ঞান করিয়ে ডাক্তার দ্বারা গর্ভপাত করানোর পর নূরজাহানকে তালাক নামা পাঠিয়ে দেয়। ২০ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে লিটন মন্ডল এখন ঢাকার এক মেয়ের সঙ্গে নতুন বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নুরজাহানের আকুতি তার ছেলে মেয়েসহ সুখের সংসার ফিরে পেতে চান । সেই সাথে লিটন মন্ডলসহ তার পরিবারের সবাইকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবিও জানান সব হারানো নুরজাহান।

 


এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By Uttoronhost.com