রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
* To read Daily Banglar Chokh News in different languages ​​by Google Translator, going to `Select Language' option in the main menu.* ডেইলি বাংলার চোখের সংবাদ গুগল ট্রান্সলেটর দ্বারা বিভিন্ন ভাষায় পড়তে মেইন মেনুতে সিলেক্ট ল্যাংগুয়েজ অপশন এ যেয়ে ভাষা নির্ধারণ করুন* गूगल अनुवादक द्वारा दैनिक बांग्ला आई न्यूज को विभिन्न भाषाओं में पढ़ने के लिए, मुख्य मेनू में भाषा का चयन करें विकल्प पर जाकर भाषा का चयन करें।*

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দন্ডিত জঙ্গি সংগঠনের ইকবাল আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
হালনাগাদ : মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১১:৪০ অপরাহ্ণ

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত পলাতক আসামি ঝিনাইদহের ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেনেড হামলার ১৬ বছর এবং আদালতের রায়ে তিন বছর পর মঙ্গলবার ইকবালকে ঢাকার দিয়াবাড়ি থেকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে। গ্রেফতারের পর ইকবাল র‌্যাবকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। ১৬ বছর আগের ওই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ননায় ইকবাল জানান, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের নির্দেশে তিনি আওয়ামী লীগের সমাবেশ মঞ্চে সেদিন গ্রেনেড ছুড়েছিলেন।

র‌্যাব জানায়, ঝিনাইদহের ইকবাল একসময় ছাত্রদল করতেন। পরে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদে (হুজি) জড়িয়ে পড়েন। গ্রেনেড হামলার পর ২০০৮ সালে তিনি বিদেশে পালিতে গিয়েছিলেন। ২০২০ সালের শেষ দিকে তিনি দেশে ফেরেন। গ্রেফতার মো: ইকবাল হোসেন ওরফে ইকবাল ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে সেলিমের বাড়ি ঝিনাইদহে। তাকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাব সদর দপ্তরে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল স্বীকার করে নিয়েছে যে, মুফতি হান্নানের নির্দেশে সে মঞ্চের দিকে গ্রেনেড ছুড়েছিলেন।

ইকবাল র‌্যাবকে জানান, তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস। স্কুল-কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৪ সালে কেসি কলেজ, ঝিনাইদহে ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের নির্বাচিত শ্রেনী প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ছিলেন। দেশে ফিরে এসে তিনি আইএসডি ফোনসহ বিভিন্ন ব্যবসায় যুক্ত হন। এ সময় তিনি সর্বহারা ও সাথানীয় প্রবাশালীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। র‌্যাবের কাছে ইকবালের জবানবন্দির বরাত দিয়ে সংস্থাটির প্রধান বলেন, ২০০১ সালে তার চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আসে। তিনি হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হন। মুফতি হান্নানের সংস্পর্শে তিনি আসেন ২০০৩ সালে। তখন থেকে জঙ্গি প্রশিক্ষন নিতে শুরু করেন। মুফতি হান্নান ও হুজি-বির শীর্ষ স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার সংস্পর্শে এসেছেন তিনি। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন গোপন বৈঠকেও অংশ নেন। মুফতি হান্নানের নির্দেশেই তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন এবং মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনড ছোড়েন।

দেশে ফেরার পর ইকবালের জঙ্গি সংযোগের তথ্য দিয়ে র‌্যাব প্রধান বলেন, ২০০৪ সালে হামলার আগেই ইকবাল ঢাকায় অবস্থান নিয়েছিল। আগস্টে মুফতি হান্নানের নির্দেশে সে ঢাকায় চলে আসে এবং গোপন আস্তানায় অবস্থান করতে থাকে। সেখানে মুফতি হান্নানসহ অন্যান্যের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয় ইকবালের জবানবন্দির বরাত দিয়ে র‌্যাব প্রধান বলেন, মুফতি হান্নানের নির্দেশে ২১ আগস্ট গ্রেনড হামলায় সরাসরি অংশ নেন। মুফতি হান্নান তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। ইকবাল মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে জঙ্গি ইকবালকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায় বলে জানায় র‌্যাব। তিনি ঝিনাইদহ, গাজীপুর ও সাভারে নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, রিকশা চালকের ছদ্মবেশে দিন কাটান। ২০০৮ সালে দেশ ছেড়ে পালান।

র‌্যাব প্রধান আল মামুন জানান, ২০০৮ সালে ইকবালকে গ্রেফতারের জন্য ঝিনাইদহে তার বাড়িতে এবং পরে গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু ইকবাল আত্মগোপন করেন। ইকবালের দেশত্যাগের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ইকবাল ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করে। প্রবাসে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় প্রথমে সেলিম এবং পরে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে। একপর্যায়ে ইকবাল প্রবাসে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে ২০২০ সালের শেষের দিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

যাবজ্জীবন দন্ডিত ইকবাল কী করে দেশ ছাড়লো এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব প্রদান বলেন, ইকবাল যে সময় দেশ ছাড়ে, সেই সময়হাতে লেখা পাসর্পোটের চলন ছিল। সে নাম পরিবর্তন করে অন্তত দুবার। তবে সে কীভাবে দেশ ছেড়েছে এবং কীভাবে ফিরেছে, সে সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

ইকবাল ‘সমমনা’দের সঙ্গে যোগাযোগেরও চেষ্টা করে। তবে সমমনা কারা, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি মহাপরিচালক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By Uttoronhost.com