শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
* To read Daily Banglar Chokh News in different languages ​​by Google Translator, going to `Select Language' option in the main menu.* ডেইলি বাংলার চোখের সংবাদ গুগল ট্রান্সলেটর দ্বারা বিভিন্ন ভাষায় পড়তে মেইন মেনুতে সিলেক্ট ল্যাংগুয়েজ অপশন এ যেয়ে ভাষা নির্ধারণ করুন* गूगल अनुवादक द्वारा दैनिक बांग्ला आई न्यूज को विभिन्न भाषाओं में पढ़ने के लिए, मुख्य मेनू में भाषा का चयन करें विकल्प पर जाकर भाषा का चयन करें।*

গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্তির পথে.. ‘প্রধানমন্ত্রীর ঢেঁকিতে পাড় দেওয়া বিরল একটি ছবি’ সহ প্রতিবেদন

কে. এম . মাহাফুজুল হক
হালনাগাদ : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৪:০০ অপরাহ্ণ

মুরুব্বীদের মুখে একটা প্রবাদ শোনা যেত..‘ ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে ‘ কিন্তু বর্তমান সময়ে স্বর্গ তো দূরের কথা বাংলার কোন গ্রামেই ধান ভানছে না ঢেঁকি..! গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। বাংলার চোখের প্রতিবেদন:-
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরল একটি ছবি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরল একটি ছবি

বাংলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে গ্রামীণ ঐতিহ্য ঢেঁকি শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। সময়ের আবর্তনে এর স্থলে এসেছে আধুনিক কলকারখানা ও সরঞ্জাম। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ঢেঁকি শিল্প শুধুই গল্প কাহিনী।
দেশের বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলের সকল মানুষের কাছে ঢেঁকির কদর ছিল অনেক বেশি। ধান ভানা, আটা , হলুদের গুড়া ও চিড়া তৈরি সহ নানাবিধ কার্যক্রম চলতো ঢেঁকির সাহায্যে।
বিশেষ করে গ্রামঞ্চলের মানুষের কাছে বিভিন্ন ধরনের পিঠা, যেমন ভাবা পিঠা, পাকান পিঠা, পাটিশাপ্টা, কুলি পিঠা সহ নানা ধরনের তেলের পিঠার প্রচলন ছিল। যা খাওয়ার উপযোগী করে তোলার জন্য একমাত্র মাধ্যম ছিল ঢেঁকি।
বংলাদেশ প্রধানত কৃষি প্রধান দেশ। এক সময় গ্রাম গুলোতে কৃষক যখন তাদের ক্ষেতের নতুন ধান ঘরে তুলতো ঠিক তখনই ঘরের বধূরা ধান ঝেড়ে রোদে শুকিয়ে ঢেঁকির মাধ্যমে ধান ভানা ও আটা তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী তৈরি করত।
আবার কখনও নতুন ধানের চিড়া তৈরির জন্য ব্যস্ত থাকত। বিগত এক যুগ আগেও এমন চিত্র দেশের বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় মানুষের মাঝে লক্ষ্য করা যেত। তাদের চাহিদা মেটাতে প্রায় সকলের বাড়িতে ঢেঁকি থাকত বললেও ভুল হবেনা।

প্রতিবেদনটি তৈরি করতে বাংলার চোখ পরিবারের একটি টিম কথা বলে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের খাজরা গ্রামের জেসমিন বেগমের সাথে।
তিনি বলেন, আমি কয়েক বছর যাবৎ ঢেঁকির সাহায্যে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমার বাড়ির আশে পাশে শত শত বাড়ি থাকলেও তাদের কোন ঢেঁকি নেই। আমি প্রতিদিন অনেক মানুষের প্রতি কেজি ৫ টাকা দরে চালের আটা তৈরি করে দিয়ে থাকি ।
কাশীপুর গ্রামের শেখ আব্দুল মাজেদ বলেন, আধুনিক কলকারখানা তৈরীর সাথে সাথে ঢেঁকি প্রচলন প্রায়ই দেখা যায় না। আগে ঢেঁকি ছাড়া ধান থেকে চাল, আটা, চিড়া এবং হলুদের গুড়া তৈরী করা সম্ভব হতো না। ঘরের বধুরা খুব ভোর থেকে ধান ভানার কাজ করত। আগে প্রত্যেকের বাড়ীতে ঢেঁকি থাকতো।
মহিলারা রান্না ও অন্যান্য কাজ করার পর ঢেঁকির কাজে ব্যস্ত থাকত। ঢেঁকি ছাটা চাল, আটা ও চিড়া অনেক সু-স্বাদু।
গ্রামঞ্চালের মহিলারা ধান ভানা, আটা, হলুদ ও চিড়া তৈরি করার সময় এক সুরে মনের আনন্দে, ও বউ ধান ভানোরে ঢেঁকিতে পাট দিয়া, ঢেঁকি নাচে আমি নাচি হেলিয়া দুলিয়া ও বউ ধান ভানোরে……………গান গাইতো।
এখন আর সেই ঢেঁকি আর দেখা যায়না বললেও ভুল হবে না।
সময়ের চাহিদা মেটাতে এর স্থলে ধান থেকে চাল , আটা ও চিড়া তৈরি এবং হলুদের গুড়া তৈরি সহ ঢেঁকির সাহায্যে করা নানাবিধ কাজ গুলো সমাপ্ত করার জন্য আধুনিক কলকারখানা সহ পৃথক পৃথক সরঞ্জাম এসেছে এমনটি ধারণা আজকের সকল মহলের।
সেই সাথে সাথে আধুনিক প্রজন্মের কাছে ঢেঁকি একটি গল্প কাহিনিতে পরিনত হতে চলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By Uttoronhost.com