শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
* To read Daily Banglar Chokh News in different languages ​​by Google Translator, going to `Select Language' option in the main menu.* ডেইলি বাংলার চোখের সংবাদ গুগল ট্রান্সলেটর দ্বারা বিভিন্ন ভাষায় পড়তে মেইন মেনুতে সিলেক্ট ল্যাংগুয়েজ অপশন এ যেয়ে ভাষা নির্ধারণ করুন* गूगल अनुवादक द्वारा दैनिक बांग्ला आई न्यूज को विभिन्न भाषाओं में पढ़ने के लिए, मुख्य मेनू में भाषा का चयन करें विकल्प पर जाकर भाषा का चयन करें।*

কুষ্টিয়ায় ধর্ষিতার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
হালনাগাদ : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১, ৫:২৫ অপরাহ্ণ

ধর্ষণের মামলা মীমাংসা করতে প্রতিনিয়ত ধর্ষিতার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে চলেছে ধর্ষকের পরিবার। সেইসাথে ধর্ষণের শিকার অসহায় নারীর পরিবারটিকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।

এরকমই অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধলনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের উমবাদের ছেলে ধর্ষক পারভেজ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে জানা যায়, গত ৮মে ২০২১ইং তারিখ আনুমানিক রাত নয়টার দিকে তার মা তারাবি নামাজ আদায়রত থাকলে তিনি উঠানে এসে বসেন। সে সময় পাশের বাড়ির দুঃসম্পর্কের চাচাতো ভাই পারভেজ পিছন দিক থেকে এসে মুখ চেপে ধরে কোলে তুলে পাজা করে তার নিজের বাড়ির শোবার ঘরে নিয়ে যায়।

তারপর দেশীয় অস্ত্রের মুখে মেয়েটিকে জিম্মি করে জামা কাপড় খুলতে বাধ্য করে ও ধর্ষণ করে। সেই সময় পারভেজের বাড়ির সবাই বাইরে ধান উড়ানোর কাজে ব্যস্ত ছিল।

পারভেজের শোবার ঘরের ভিতরে মেয়েটি চিল্লাচিল্লি করার চেষ্টা করলে পারভেজ তার মুখ চেপে ধরে ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে চিল্লাচিল্লি থামাতে বাধ্য করে।

একই সময় ওই এলাকাতে মাইকে গজল প্রচার হওয়ার কারণে অতিরিক্ত শব্দে বাইরে থেকে কেউ কিছুই টের পাননি। তাছাড়া পারভেজ মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে সজোরে আঘাত করে এবং তাকে তার কথা শুনতে বাধ্য করে।

এছাড়া পারভেজ এর বিরুদ্ধে সেসময় মেয়েটির উলঙ্গ ছবি মোবাইলে ধারন এবং পরবর্তীতে সেই ছবিগুলো ধর্ষণের শিকার মেয়েটির ভাই ও গ্রামের বেশ কিছু মানুষকে দেখানোর অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী মেয়েটি।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাদের পারিবারিক দোকানে এলাকার অনেককে আসতে নিষেধ করেছেন ধর্ষকের চাচা শমসের। শমসের এলাকার গ্রাম্য মাতব্বর।

তিনি এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে গিয়ে ওই দোকান থেকে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত কেনাকাটা করতে তাদেরকে নিষেধ করেছে। যদি কেউ এই নিষেধ অমান্য করে কেনাকাটা করেন তবে তাকে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বর্তমানে ভুক্তভোগীর পরিবারেরটিকে এক ঘরে করে রাখা হয়েছে। ধর্ষণের মামলাটি তুলে নিয়ে আপোষ মীমাংসা না করলে তাদেরকে এলাকা থেকে উৎখাত করা হতে পারে এমন পরিকল্পনা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

কুমারখালী উপজেলার ৯ নং চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রাশিদুজ্জামান (তুষার) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি।

ভুক্তভোগী পাশের বাড়ির ছেলে পারভেজের সাথে তার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে যাই ঘটে না ঘটে কিন্তু পরবর্তীতে পারভেজ মেয়েটিকে অস্বীকার করে এবং বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় মেয়েটির পরিবার মামলা করেছে।

তবে পারভেজ এখনো পলাতক রয়েছে। ভুক্তভোগীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার নাজমুল হক দীপু জানান, ভুক্তভোগী মেয়েটির মেডিকেল সম্পন্ন হয়েছে। কুমারখালী আমলী আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ইতিমধ্যে ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্দি নিয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত আসামিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মামলার আইও, সাব ইন্সপেক্টর আল ইমরানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান- আমি বিষয়টি অবগত আছি এবং মামলার আইও আমি।

একটি মেয়েকে উদ্ধার করে মেডিকেল করানো হয়েছে এবং আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। আসামীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

যত দ্রুত সম্ভব আসামিকে আটক করে মহামান্য আদালতে সোপর্দ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত ভিকটিমের জবানবন্দির কপি এবং মেডিকেল রিপোর্ট এসে পৌঁছায়নি।

তবে আশা করছি আগামী রবি/সোমবার নাগাদ আমরা রিপোর্টগুলো হাতে পাব। রিপোর্টগুলো পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By Uttoronhost.com