বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫০ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘রাশিদুল বাহিনী’র সন্ত্রাসী কার্যক্রম

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি / ১৭৫ বার দেখেছেন
হালনাগাদ : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ১:৫৭ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়া অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায়ের ঘটনার আসামীরা এখনও আটক হয়নি বলে এলাকাবাসী চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছে।

একসময়ের কুষ্টিয়া জেলা চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসাবে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিত ছিল। ঐ এলাকার এক সময়ে শ্রমজীবি মুক্তি আন্দোলনের বাঘা বাঘা নেতা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও কিছু সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে গা ঢাকা দেয়। সেই সব সন্ত্রাসী আবারাে আলামপুর, ভাদালিয়া, রাজাপুর, চান্দামারী, কাথুলিয়া, চাপাইগাছি, দরবেশপুর মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

একটি সুত্র জানায়, এই সব সন্ত্রাসী অস্ত্র সন্ত্র নিয়ে এলাকার টেন্ডারবাজি, অপহরণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্ম করছে। সেই সাথে রয়েছে তাদের রমরমা মাদক ব্যবসা।

রাজাপুরের রাশেদুল ঐ সময় চরমপন্থী সক্রিয় সদস্য হলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখে সিঙ্গাপুর পাড়ি জমায়। কাথুলিয়া এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে আইনাল দেশের বাইরে চলে যায়। পরবর্তীতে দেশের পরিস্থিতি ভাল হলে তারা এসে সসস্ত্র বাহিনী গঠন করেছে বলে এলাকাবাসী অভিযােগ করেন।

খাজানগর কবুরহাট রাইস মিলে চাঁদা আনতে গিয়ে গনপিটুনিতে নিহত হয় তৎকালীন সময়ের মাহাবুল। এ এর সাথে জড়িত ছিলাে রাশেদুল ও আইনাল সহ তার বাহিনী।

তাদের কাছে রয়েছে এ সময়ের ভারী ভারী অস্ত্র বলে এলাকাবাসী জানায় । নিরবে এই বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজী, অপহরণ সহ বিভিন্ন অপকর্ম করছে বলেও অভিযােগ রয়েছে।

২০০০ সালের আগে থেকেই জন্ম নিয়েছিল একাধিক চরমপন্থী সংগঠন। তারপর থেকে প্রতিনিয়ত কুষ্টিয়া জেলায় ঘটতে থাকে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি , অপহরণ ও গুম সহ নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ড, মেতে উঠেছিল রক্তের হােলিখেলায়, শহরের অলিতে গলিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে মাথা কাটা লাশ।

সরকারি দপ্তরের সামনে কাটা মাথা সহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন দেহ বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া গেছে। ২০০৮ সাল থেকে সকল চরমপন্থী সংগঠন গুলাে আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

সাম্প্রতি আলামপুর এলাকার এক গরু ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে এই বাহিনী। উল্লেখ্য,কুষ্টিয়া আইন-শৃখলারক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বাঘা বাঘা সন্ত্রাসীরা বন্দুকযুদ্ধে মারা গেলেও থেকে যায় কিছু হিচকে চরমপন্থী। তখন তারা জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়।

বর্তমানে পালিয়ে থাকা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা রাজাপুর গ্রামের রাশিদুল ইসলাম, আশরাফুল, আইনাল সহ একাধিক সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে তৈরি করেছে চরমপন্থী সংগঠন।

বর্তমানে রাশিদুল এর নেতৃত্বে এই সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিদুল দলীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে পােস্ট করে সেলফি বাজ নেতা বলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

পাশাপাশি রাত নেমে আসলেই শুরু করে তাদের তান্ডব লীলা। তারই সূত্র ধরে রাশিদুল আয়নাল আশরাফুল সহ সাতজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী গত ১৭ তারিখ রাত আনুমানিক ৮ ঘটিকা সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের শরীফ নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় খয়েরপুর গ্রামের মাঠে।

উক্ত মাঠে নিয়ে গিয়ে তাকে পিঠমােড়া করে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে বুকে দুইটা পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তীতে প্রানের জয়ে গরু ব্যবসায়ী শরীফ তাদের মুক্তিপণের টাকা দিয়ে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসেন।

উল্লেখ্য ভুক্তভােগী শরিফের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, তার অরজিনাল বাড়ি কুমিল্লার চাঁদপুরে। গত দুই বছর আগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সােনাইডাঙ্গা গ্রামে একটি জায়গা ভাড়া নিয়ে প্রথমে শুরু করেছিলাম গরুর খামারের ব্যবসা। উক্ত গরুর খামারের ব্যবসায়। লাভবান না হতে পেরে অবশেষে রাজাপুর গ্রামে একটি জমি ক্রয় করে সেখানে গত ৩ মাস আগে বড় আকারে একটি গরুর খামার তৈরি করি, কিন্তু এখনও বাড়ি করতে পারি নাই।

খামার তৈরি করার শুরুতেই আমার কাছ থেকে ঐ সন্ত্রাসী রাশিদুল বাহিনী প্রায়ই ২০, ৩০, ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে তারা গত ১৭ তারিখে আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে গত ১৮ তারিখ সন্ধ্যায় শরিফের গরুর খামারের পাশে এলাকাবাসীদের নিয়ে মিটিং বসে উক্ত মিটিংয়ে আশরাফুল ও রাশিদুল উপস্থিত হলেও বাকিরা কেউ উপস্থিত হয় নাই।

তবে এ বিষয়ে শরিফ ভয়ে প্রথমে মুখ খুলতে রাজি হননি পরবর্তীতে তিনি প্রতিবেদক এর কাছে সম্পূর্ণ কথা খুলে বলেন। তিনি এটাও বলেন যে, তারা আমাকে নানা রকম ভয়-ভীতি দেখিয়ে বলে যে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীদের কাছে মুখ খুললে তুই সহ তার পরিবার হারিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত এলাকার একাধিক বাসিন্দা প্রতিবেদককে জানান, অত্র অঞ্চলের সন্ত্রাসীরা যখন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছিল, ঠিক তখনই রাশিদুল সুযােগ বুঝে সিঙ্গাপুর পালিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে পরিবেশ শান্ত হলে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে এসে বেপরােয়া চলাফেরা শুরু করেন।

সেই সাথে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সাথে আতাত শুরু করেন এবং এলাকাতে সেলফিবাজ নেতা বলে পরিচিতি লাভ করেছে। ইতিমধ্যে এলাকাতে একটি চরমপন্থী বাহিনী তৈরি করেছে এবং তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে আগ্নেআস্ত্র আছে বলে আমরা জেনেছি।

প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি এই চরমপন্থী সংগঠনের নেতা সহ সকলকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হােক এবং তাদের অস্ত্র ভান্ডার উদ্ধার করার জন্য বিনীত অনুরােধ জানাচ্ছি।

 


এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By Uttoronhost.com