শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১০:৪২ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
* To read Daily Banglar Chokh News in different languages ​​by Google Translator, going to `Select Language' option in the main menu.* ডেইলি বাংলার চোখের সংবাদ গুগল ট্রান্সলেটর দ্বারা বিভিন্ন ভাষায় পড়তে মেইন মেনুতে সিলেক্ট ল্যাংগুয়েজ অপশন এ যেয়ে ভাষা নির্ধারণ করুন* गूगल अनुवादक द्वारा दैनिक बांग्ला आई न्यूज को विभिन्न भाषाओं में पढ़ने के लिए, मुख्य मेनू में भाषा का चयन करें विकल्प पर जाकर भाषा का चयन करें।*

কুইন, স্বর্ণপদক পায়ছে আমার পরানডা ভরে গেছে “বাবা”….

মুরাদ হোসেন
হালনাগাদ : শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৪:০৩ অপরাহ্ণ

দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারের মেয়ে কুইন, দিনমুজুর বাবার পক্ষে সংসারের চাহিদা মিটিয়ে লেখা পড়ার খরচ দেওয়া সম্ভব না। তাই টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই চালিয়ে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক পেয়েছে মোছা: কুইন আরা। কুইন আরা মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ঝগড়দিয়া গ্রামের মোস্তাফিজুর খাঁনের মেয়ে। তার এই সাফল্যে পিতা-মাতা, এলাকাবাসী ও শিক্ষক মন্ডলী খুব খুশি।

মাগুরা সদরের বেরইল নাজির আহমেদ কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী কুইন আরা। সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন কলেজগুলোর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ নাম্বর পেয়ে এই ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক পেয়েছে। সাত ভাই-বোন ও মা-বাবাকে নিয়ে কুইনদের অভাবী সংসার। বাবার কাঠের ব্যবসা, কৃষি কাজসহ দিনমুজুরীর কাজ করে সংসারের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। তার উপর সাত ছেলে-মেয়ের লেখা পড়ার খরচ। তাই কুইন আরা টিউশনি করে নিজের খরচ নিজেই জোগার করে লেখা পড়া চালিয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সারাদেশের কলেজগুলোর মধ্যে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ নাম্বর পেয়ে ভাইস চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক পেয়েছে কুইন আরা। তার প্রাপ্ত সিজিপিএ ৩.৬৮। পূর্বে সে উপজেলার নহাটা গার্লস স্কুল এ্যান্ড আইডিয়াল কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ- ৪.৬৯ এবং এইচএসসিতে জিপিএ- ৫ পেয়ে বেরইল নাজির আহমেদ কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি হয়। কুইন মেধাবী ছাত্রী হওয়ায় এবং তার চেষ্টা আর পরিশ্রমে এই সাফলতা অর্জণ।

বাবা মোস্তাফিজুর খাঁন বলেন, আমি যে কাজ করি তা দিয়ে আমার সংসার চালাতি হিমশিম খাতি হয়। ছেলে মেয়েদের ঠিকমত খাওয়াতি পারিনে। তার পর সাত ছেলে মেয়ের লেখা পড়া। সেজো মেয়ে কুইন অনেক কষ্ট করে। বাড়ী বাড়ী যেয়ে টিউশনি করে তার নিজের লেখা পড়ার খরচ চালাত। খুব কষ্ট করে আমার মেয়ে স্বর্ণের মেডেল পায়ছে, আর মেয়েকে সবাই ভালো কচ্ছে আমার পরানডা ভরে গেছে।

নাজির আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষ মো: খন্দার হায়াত আলী জানান, প্রতিকুল পরিবেশে মেধার বিকাশ ঘটে। কুইন আরার পরিবার খুব গরীব, কিন্তু সে খুব মেধাবী। লড়াই করে পড়া লেখা শিখছে কুইন আরা। তার এই সাফলতা অর্জনে আমরা গর্ব বোধ করি।

মোছা: কুইন আরা বলেন, আমি ক্লাস নাইন থেকে টিউশনি করে লেখা পড়ার খরচ চালিয়ে আসছি। বাবাকে আমি কখনো খরজের জন্য চাপ দেয়নি। পড়ানো আমার কাছে এখন খুব ভালো লাগে। ভবিষ্যতে শিক্ষকতা করে জীবনটা কাটাতে চাই।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By Uttoronhost.com