শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
* To read Daily Banglar Chokh News in different languages ​​by Google Translator, going to `Select Language' option in the main menu.* ডেইলি বাংলার চোখের সংবাদ গুগল ট্রান্সলেটর দ্বারা বিভিন্ন ভাষায় পড়তে মেইন মেনুতে সিলেক্ট ল্যাংগুয়েজ অপশন এ যেয়ে ভাষা নির্ধারণ করুন* गूगल अनुवादक द्वारा दैनिक बांग्ला आई न्यूज को विभिन्न भाषाओं में पढ़ने के लिए, मुख्य मेनू में भाषा का चयन करें विकल्प पर जाकर भाषा का चयन करें।*

`অভিশপ্ত জীবনের গল্প’ পর্ব- ৪

কে,এম. মাহাফুজুল হক
হালনাগাদ : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১, ৬:০৭ অপরাহ্ণ

কাউকে কাঁদিয়ে কেউ কখনো সুখী হতে পারে না। তেমনই একটি জীবনের গল্প নিয়ে লেখা `অভিশপ্ত জীবনের গল্প’।

পরবর্তী….  

ফারিয়া ফয়সালের কাছে এসে দুজন দুজনার দিকে এক পলকে চেয়ে থাকে।পলক যেন পড়তে চায় না। হঠাৎ কাবাব মে হাড্ডি হয়ে, দুজনার মাঝে জানান দেয় শিখা।

ছোট্ট ছোট্ট কাশি দিয়ে ফয়সাল এবং ফারিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিখা।শিখা ফারিয়ার রুমমেট। আজ প্রথম ফয়সালের সাথে দেখা করতে এসেছে ফারিয়া, আজ ওদের প্রথম শুভদৃষ্টি।শিখা ওদের এই শুভদৃষ্টির পর্বটিকে/ অনুভূতিকে দেখার জন্য ছটফট করছিল। তাই সেও চলে এসেছে।

চাহনি পর্ব শেষ হওয়ার পরে সবাই কফি খেতে বসলো। ফয়সাল একনাগাড়ে দেখে যাচ্ছে ফারিয়াকে। হঠাৎ শিখা বলে উঠলো, ফয়সাল ভাইয়া আপনি চিটাগাং যাচ্ছেন? ফয়সাল বলল জি, চিটাগাং যাচ্ছি। শিখা বলে একাই যাচ্ছেন?

আপনি চাইলে আমরাও যেতে পারি। একা একা চিটাগাং গেলে, মনটা তো পড়ে থাকবে ঢাকাতেই। তাছাড়া আমাদের তেমন কোন কাজ নেই ঢাকায়। কলেজ বন্ধ।

শিখা বলে, আশাকরি ফারিয়ার এতে অমত হওয়ার কিছু নেই। দু-তিন দিন ছোটখাটো একটা ভ্রমণ হয়ে যাক ।

শিখা ফারিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে, যদি ফয়সাল ভাইয়ের কোন আপত্তি না থাকে তবে লাগেজ গুছিয়ে নেই ফারিয়া? পরবর্তীতে তিনজনের সিদ্ধান্ত হলো তারা সবাই চিটাগাং যাবে। ফারিয়া এবং শিখা চিটাগাং যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে আর ফয়সাল বিশ্রাম নিচ্ছে।

অবশেষে শুরু হল চিটাগং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা। পাশাপাশি সিটে বসেছে ফয়সাল ও ফারিয়া। যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে দু’জন।গাড়ি চলছে তো চলছেই। হঠাৎ ফারিয়া ফয়সাল কে উদ্দেশ্য করে বলল, ফয়সাল আমার মাথা ব্যথা করছে। আমার গাড়িতে জার্নি করতে কষ্ট হয়।

ফয়সাল আস্তে আস্তে ফারিয়ার মাথা মেসেজ করতে থাকে, এবং ফারিয়াকে বলে একটু ঘুমানোর চেষ্টা করো মাথাব্যথা কমে যাবে।কখন যেন ফারিয়া ফয়সালের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।এই ঘুম যেন ভাঙার নয়,স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে যেন ঘুম পরী। এক ঘুমে পৌঁছে গেল চিটাগাং।

রাত প্রায় সাড়ে বারোটা বেজে গেছে। পথ যেন শ্মশান, কোথাও যেন কেউ নেই। ফয়সাল একটি সিএনজি ডেকে নিল। আগে একটা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।

যেহেতু ফয়সাল ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়ী কাজে অনেকবার এসেছে চিটাগাং তাই রাস্তা-ঘাট, হোটেল সব কিছুই তার ভালো জানাশোনা। সিএনজি ড্রাইভার কে বলল আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সামনে যাবে তারা। ওখানে একটি আবাসিক হোটেলে আপাতত থাকার ব্যবস্থা করে ফয়সাল।

জার্নি করে ক্লান্ত ফারিয়া। ফয়সাল শিখা কে উদ্দেশ্য করে বলে আপু, খাবার আসছে। আপনারা ফ্রেশ হয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। কথা হবে কাল সকালে। আজ অনেক রাত হয়ে গেলো।

রাতে যে যার মত খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।সকালে ঘুম ভেঙে উঠে ফয়সাল ফারিয়া ও শিখা কে ডাকলো। তারা যেন তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নেয়। ব্রেকফাস্ট করে রওনা দিবে ফয়সাল তার কাঙ্খিত কাজে।

সারাদিন তেমন কোন কথা হয়না ওদের। ইতিমধ্যে ফয়সাল দ্রুত তার কাজ সেরে ফারিয়ার কাছে আসে। ফারিয়া চলো আমরা ঘুরতে যাই সমুদ্র পাড়ে।

এভাবে বেশ দু’দিন সময় ভালই কেটে গেল ওদের। ফারিয়া ও শিখার ফিরতে হবে ঢাকায়। ফয়সালের ও কাজ শেষ। ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো ওরা তিনজন।

সময় যেন খুব দ্রুতই চলে গেল। যাত্রাপথে মন ভার হয়ে আছে ফয়সাল ও ফারিয়ার। একে-অন্যের থেকে দূরে যেতে চাইছে না। কিন্তু দূরে তো যেতেই হবে।

ঢাকায় পৌঁছে  গেল সবাই ,ফারিয়াকে বিদায় জানানোর সময় ফয়সালের চোখের কোনে জল ভেসে উঠলো। জীবনের থেকেও যে বেশি ভালবাসে ফারিয়া কে। কে জানতো বিধাতা লিখে রেখেছে এই ওদের প্রথম দেখা এবং শেষ….

 

আসছে আগামী পর্বে….


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “`অভিশপ্ত জীবনের গল্প’ পর্ব- ৪”

  1. মাহামুদা হক says:

    পর্ব গুলো দ্রুত পেলে খুব খুশি হতাম!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By Uttoronhost.com